আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় একটানা সেবা করার এক ঐতিহাসিক কীর্তি স্থাপন করলেন নরেন্দ্র মোদি। এই বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করার পর দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে উপরাষ্ট্রপতি, লোকসভার স্পিকার এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির অফিশিয়াল বার্তা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই অনন্য সম্মানের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি লিখেছেন, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আসলে ভারতের সাধারণ মানুষের মনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি থাকা অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের এক অকাট্য প্রমাণ। রাষ্ট্রপতির মতে, তাঁর এই কার্যকাল শাসনব্যবস্থার সুদূরপ্রসারী উন্নতি, অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা এবং সামাজিক রূপান্তরের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে প্রান্তিক স্তরের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে ‘অন্ত্যোদয়’ দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে মোদি সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোতে। রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁর নেওয়া বহু উদ্যোগের মধ্যে ‘PM-JANMAN’ এবং ‘ধর্তি আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান’ প্রকল্প দুটি তাঁর হৃদয়ের অত্যন্ত কাছাকাছি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রা দেশের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আশা ও আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক কীর্তিকে অনন্য ভাষায় উদযাপন করেছেন দেশের উপরাষ্ট্রপতিও। তিনি তাঁর অভিনন্দন বার্তায় মোদীজিকে সমকালীন ভারতের ‘যুগ পুরুষ’ বা এক নতুন যুগের রূপকার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উপরাষ্ট্রপতি অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন যেভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছিলেন, ঠিক তেমনই আমাদের সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের ২৫ কোটিরও বেশি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের নিষ্ঠুর কবল থেকে মুক্ত করে এক অভূতপূর্ব মানবিক নজির গড়েছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং প্রযুক্তির পাশাপাশি ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অভূতপূর্ব পুনরুজ্জীবন ঘটেছে। লোকসভায় পবিত্র 'সেঙ্গোল' স্থাপন, কাশী তামিল সঙ্গম বা সৌরাষ্ট্র তামিল সঙ্গমের মতো আয়োজন এবং বিদেশ থেকে প্রাচীন ও বিরল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে এনে তিনি ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে দেশকে মুক্ত করেছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তামিল ঋষি কনিয়ান পুঙ্গুন্দ্রনারের অমর বাণী উদ্ধৃত করে তিনি যেভাবে বিশ্বকে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা এক পরিবারের ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন, তা ভারতের সনাতন দর্শনকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০৪৭ সালের ‘বিকসিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর এই নিঃস্বার্থ সাধনা লক্ষ লক্ষ মানুষের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

অন্যদিকে, এই বিশেষ দিনটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের সুদৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে দেখছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। প্রধানমন্ত্রী তথা লোকসভার সদনেতা নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, একটানা ৪,৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশসেবা করার এই ঐতিহাসিক পর্ব  আসলে ভারতীয় গণতন্ত্রের গভীরতা এবং জনগণের অটুট বিশ্বাসের প্রতিফলন। এই দীর্ঘ সময়কালের মধ্যে সুস্থ সংসদীয় প্রক্রিয়া ও মহান ঐতিহ্যের মাধ্যমে আমাদের সাংবিধানিক মূল্যবোধ, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি শক্তিশালী ও সচল হয়েছে। ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের সংকল্প ও সুশাসনের লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করেন। একই সুর শোনা গেছে পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলাতেও। এই দিনটিকে দেশের ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিগত ৪,৩৯৯ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোদীজি এক অনমনীয় ও দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা ভারতকে বিশ্বমঞ্চে এক শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’—এই দর্শনে ভর করে সমাজের শেষ প্রান্তের নাগরিককে দেশ গড়ার কাজে শামিল করার যে অনন্য প্রয়াস মোদী সরকার দেখিয়েছে, তা ভারতকে একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর ও বিকসিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার যৌথ স্বপ্নকে সফল করতে সাহায্য করবে।