আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রেম, বিয়ে, প্রতারণা। ফের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল বিজেপি শাসিত রাজ্য। প্রেমের জেরে নৃশংস খুন যুবকের। প্রেমিকার স্বামীকে খুন করে সেপটিক ট্যাঙ্কে দেহ লুকিয়ে রেখেছিলেন যুবক। ছ'মাস পর নিখোঁজ তরুণের কঙ্কাল উদ্ধার করল পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের দেউরি শহরে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, ছ'মাস আগে ২২ বছরের এক তরুণ আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘ কয়েক মাস তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য ফাঁস করল পুলিশ। সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হল মুণ্ডু। অভিযুক্ত যুবকের বাড়ির পিছনের সেফটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয়েছে কঙ্কাল, হাড়গোড়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সাগর জেলার বাসিন্দা ছিলেন প্রিন্স। গত বছর ২০ আগস্ট তাঁর নিখোঁজ ডায়েরি করেন স্ত্রী তুলসি। তল্লাশি চালিয়েও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। এদিকে পরিবারের অভিযোগ ছিল, প্রিন্সের নিখোঁজ হওয়া কোনও দুর্ঘটনা নয়। বরং পরিকল্পনামাফিক ঘটানো হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও ফোন ট্র্যাক করে মূল অভিযুক্ত শোয়েবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরার পর শোয়েব স্বীকার করেন, প্রিন্সকে মাদক খাইয়ে খুন করেছেন তিনি। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং প্রতারাণার জেরেই পরিকল্পনামাফিক এই খুনের ঘটনা ঘটে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, প্রিন্সের সঙ্গে বিয়ের আগে থেকেই শোয়েব ও তুলসির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ হয়েছিল তাঁদের। বিয়ের পরেও শোয়েবের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রেখেছিলেন তুলসি। বিয়ের কয়েক মাস পরেই তুলসির ব্যবহার বদলে যায়। যা ঘিরে বাড়িতেই নিত্যদিন অশান্তি হত। দম্পতি দেউরি শহরে থাকতে শুরু করেন।
সেই সময়েই প্রিন্সের সঙ্গে শোয়েবের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। দু'জনেই একসঙ্গে মাদক খেতে শুরু করেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় একাধিকবার তুলসির সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে যান শোয়েব। একদিন তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন প্রিন্স। যা ঘিরে আবারও তুমুল ঝামেলা হয়।
সেই ঝামেলার কারণে ২০ আগস্ট প্রিন্সকে মাদক খাইয়ে খুন করেন। দেহটি লুকানো ছিল তাঁর বাড়ির পিছনের সেপটিক ট্যাঙ্কে। আর্বজনা দিয়ে সেটি বন্ধ করে রেখেছিল, যাতে কারোর সন্দেহ না হয়। পাশাপাশি ছড়িয়ে দিতেন নুন।
খুনের পর তুলসির সঙ্গে গুজরাটে পালিয়ে যান শোয়েব। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের একাধিক ছবি, ভিডিও দেখতে পেয়েছে পুলিশ। কঙ্কালটি উদ্ধারের পর ডিএনেএ পরীক্ষা করা হয়। যা প্রিন্সের সঙ্গে মিলে গেছে। শোয়েবকে গ্রেপ্তার করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলছে।
