আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের মণ্ডলা জেলায় কুকুরের নির্বীজকরণ বা স্টেরিলাইজেশন প্রকল্পের আড়ালে এক ভয়াবহ জালিয়াতির হদিস মিলেছে, যা শুনে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ ও প্রশাসনের। একটি ভাড়াবাড়ি থেকে কয়েকশো কুকুরের প্রজনন অঙ্গ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতাতে কোনও নির্বীজকরণ না করেই অন্য জায়গা থেকে কুকুরের দেহাংশ সংগ্রহ করে মজুত করছিল একটি বেসরকারি সংস্থা।

ঘটনার সূত্রপাত মণ্ডলা পুরসভার একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে। শহরের সারমেয়দের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কুকুরের নির্বীজকরণের জন্য ৬৭৯ টাকা দরে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। জবলপুরের ‘মা অম্বে এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এই কাজের বরাত দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি একটিও কুকুরের নির্বীজকরণ করেনি বলে অভিযোগ। বারংবার নোটিশ দেওয়ার পর গত ২ এপ্রিল তাদের চুক্তি বাতিল করে দেয় পুরসভা। এরপরই এক পশুপ্রেমী কর্মী নিশা সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থার ভাড়া নেওয়া ঘরে অভিযান চালায় পুলিশ, পুর আধিকারিক এবং পশু চিকিৎসকদের একটি দল।

সেই ঘর থেকে ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত দুটি বড় কন্টেনার উদ্ধার করা হয়। যা পরীক্ষা করে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় বিশেষজ্ঞদের। ওই পাত্রগুলি থেকে মোট ৭৯৫টি কুকুরের প্রজনন অঙ্গ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫১৮টি পুরুষ কুকুরের এবং ২৭৭টি স্ত্রী কুকুরের দেহাংশ। অভিযোগকারী ও পুলিশ প্রশাসনের সন্দেহ, সংস্থাটি স্থানীয়ভাবে কোনও কাজ না করলেও জাল বিল জমা দিয়ে টাকা হাতানোর জন্য বাইরে থেকে এই দেহাংশগুলি সংগ্রহ করে রেখেছিল, যাতে তারা দেখাতে পারে যে নির্বীজকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

মন্ডলা পুরসভার প্রধান আধিকারিক গজেন্দ্র নাফাদে জানিয়েছেন, ওই সংস্থার কাজ শুরু না করায় আগেই তাদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি কোথা থেকে এল এবং কেন সেগুলি সেখানে জমানো ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পশু চিকিৎসক সুমিত প্যাটেল জানিয়েছেন, সাধারণত নির্বীজকরণের পর দেহাংশগুলি নষ্ট করে ফেলা হয়, কিন্তু এভাবে এত বিপুল পরিমাণে অঙ্গ জমিয়ে রাখাটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই ভয়াবহ কারবার চালানো হচ্ছিল কিনা, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।