আজকাল ওয়েবডেস্ক: রোজকার যাতায়াত দিন দিন আরও বেশি সময় সাপেক্ষ হয়ে উঠছে ভারতে। একজন ভারতীয় উদ্যোক্তা নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন সমাজমাধ্যমে। নয়ডাবাসি এই উদ্যোগপতির দাবি তাঁর অফিসে পৌঁছতে সময় লাগে ৪৫ মিনিট। অথচ দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটারের।
এইটুকু যাতায়াতেই সময় চলে যাচ্ছে প্রায় ২ ঘন্টা, প্রতিদিন। সেই সমস্যাকেই তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর কথায় উঠে এসেছে ভারতের শহরগুলি কতখানি অপরিকল্পিত। সমাজ মাধ্যমে তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে নতুন তর্কের বিষয়। মানুষ নিজেদের মূল্যবান সময়ের মধ্যে প্রায় ২ ঘন্টা নষ্ট করে ফেলেন এই অপরিকল্পিত শহরের রাস্তাঘাটে। বাড়ি থেকে অফিস যেতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে তাঁদের সময়।
এই উদ্যোক্তা তাঁর সমাজমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে জানান, ‘আমার বাড়ি থেকে অফিসের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। কিন্তু সেইটুকু যেতেই আমার সময় লেগে যায় ৪৫ মিনিট। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, একটুও টাইপিং মিসটেক হয়নি আমার। ৪ কিলোমিটার। ৪৫ মিনিট। তাও গাড়িতে। আমি যদি হেঁটে অফিস যেতে শুরু করি, তাহলে মাঝখানে কোথাও দাঁড়িয়ে একটু চা খেয়ে আবার হেঁটে অফিস পৌঁছে যাব। তাও এর চেয়ে তাড়াতাড়ি। পৌঁছেও দেখব রাস্তায় তখনও ট্রাফিক আটকে আছে। দিন দিন বিষয়টা অসহ্য হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বেশ কিছু পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বিষয়টা বোঝাতে চেয়েছেন। তাঁর মতে দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরে, বিশেষ করে কর্পোরেট সংস্থা যেখানে বেশি সংখ্যায় রয়েছে সেই সব শহরগুলিতে ট্রাফিকে সময় বেশি নষ্ট হয়। তার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, ‘প্রতি ঘন্টায় গড়ে প্রায় ১৪ লক্ষ ক্যাব এই শহরগুলিতে এক ঘন্টার দূরত্বে যাতায়াত করে রোজ। যেমন, বেঙ্গালুরুতে এক ঘন্টার দূরত্বে প্রায় ৩,৯৪,৯৪৩ গুলি ট্রিপ বুক হয়। আবার দিল্লিতে সংখ্যাটা ৩,০১,৪৮৮; মুম্বই-এ ২২,৭২৭; চেন্নাই-এ ১,৬৬,৪৪৫; আর পুনেতে ২,৪৯,১৬৮ ট্রিপ বুক হয় গড়ে প্রতি ঘন্টায়। এগুলো মূলত জিসিসি কর্মীদের যাতায়াতের হিসাব। ক্যাব এসে পিকাপ করে, আর ক্যাব ড্রপ করে।’
জিসিসি মানে 'গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টারস'। এর মানে, বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির মূল অফিস হয়ত অন্য কোনও দেশে, কিন্তু এখানেও কোনও এক শহরে সেই কোম্পানির একটি অফিস খোলা হয়েছে। সেই অফিসকে জিসিসি অফিস বলা হয়। এবং সেই কোম্পানির কর্মীদের জিসিসি কর্মী বলা হয়।
উদ্যোক্তা আক্ষেপ করে জানান, আমাদের দেশের শ্রমজীবীরা দিনের অনেক খানি সময় খালি নষ্ট করছেন রাস্তায়। অথচ সেই সময়টা কাজে লাগিয়ে হয়ত তাঁরা নতুন কিছু শিখতে পারতেন, যেটা ঘুরে ফিরে নিজের কর্মক্ষেত্রেই কাজে লাগত। কিন্তু সেই উপায় নেই। গাড়িতে বসে নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন অনেকটা করে সময়। তাঁর কথায়, ‘আমাদের দেশে গুণী লোকের অভাব নেই। বিশ্বমানের গুণী মানুষ রয়েছেন ভরে ভরে। সুন্দর অফিস। কিন্তু সেই গুণী কর্মীদের অফিস যাতায়াতের পথ? সেগুলো এখনও আটকে ২০০৪-এ’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বমানের কাজ করছি। দেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরছি। কিন্তু ৪ কিলোমিটার গাড়িতে যেতে নষ্ট করছি ৪৫ মিনিট। মানুষ এই ট্রাফিক ঠেলে অফিস ঢুকে মিটিং করার মতো শক্তি খুইয়ে ফেলে। প্রতি দিন এভাবে যদি ২ ঘন্টা করে নষ্ট হয়ে যায় তাহলে হপ্তায় ১০ ঘন্টা আর মাসে ৪০ ঘন্টা। বছরে সেই নষ্ট হওয়া ঘন্টার হিসাব ঠেকে ৫০০-এর ঘরে। শুধুমাত্র ট্রাফিকে আটকে থেকে।’
ওই উদ্যোক্তার মতে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে যদি কোম্পানিগুলি আলাদা আলাদা সময়ে কর্মীদের কাজে ডাকেন। কিছুক্ষেত্রে বাড়ি বসে যদি কর্মীদের কাজের সুযোগ দেওয়া হয় সেক্ষেত্রেও এই সমস্যা কিছুটা কমবে।
এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। মানুষ মন্তব্য করেন, অন্য রাস্তা ধরে অফিস যাওয়ার জন্য। কেউ বা সহমত হয়ে নিজের অভিজ্ঞতাও লেখেন। আবার কেউ কেউ বলেন, ‘নয়ডার কোথায় থাকেন আপনি? আমি গত ১০ বছর ধরে এই শহরে আছি। ৪৫ মিনিটে কম করে হলেও ১৫ কিলোমিটার চলে যেতে পারি’।















