আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাওবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর মুহুর্মুহু গুলির লড়াই। পরপর এনকাউন্টারে ছত্তিশগড়ে ফের খতম একাধিক মাওবাদী। এদিন ফের ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে খতম ১৪ জন মাওবাদী। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে গুলির লড়াই চলেছে ছত্তিশগড়ের সুকমা ও বিজাপুর জেলায়। ১৪ জন মৃত মাওবাদীর মধ্যে ১২ জন সুকমায় খতম হয়েছে, বাকি দু'জন বিজাপুর জেলায়। দুই জেলাতেই মাওবাদীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এখনও গুলির লড়াই চলছে বলেই খবর। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 

প্রথম এনকাউন্টারটি ঘটেছে সুকমা জেলার কিস্তারাম এলাকায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই এলাকায় এদিন সকালে তল্লাশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। কয়েক মিনিট পরেই শুরু হয় গুলির লড়াই। জানা গেছে, মৃত মাওবাদীদের মধ্যে এক সিনিয়র মাওবাদী নেতার মৃত্যু হয়েছে। এমনকী পুলিশ আধিকারিক আকাশ গীরপুঞ্জের হত্যাকারী মাওবাদীও এই এনকাউন্টারে খতম হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, একাধিক একে ৪৭ ও প্রচুর রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনী নকশালবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। গত দু’বছরে সুকমা জেলায় সাম্প্রতিক একটি সংঘর্ষে তিনজন-সহ মোট ৫০৩ জন মাওবাদীকে এনকাউন্টার করেছে। নকশালবাদ নির্মূলের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ২০২৬ সালের মার্চ মাসের সময়সীমার পর এই অভিযান তীব্রতর হয়েছে এবং নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই অভিযানগুলির ফলে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। যা প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলে মাওবাদী প্রভাব ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। 

গত দুই বছরে ছত্তিশগড়ে ৫০৩ জন মাওবাদীকে নির্মূল করা হয়েছে। এই বছর শুধু  ২৮৪ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে, যার মধ্যে বস্তার অঞ্চলেই ২৫৫ জন নিহত হয়েছে। গত বছর রাজ্যটিতে ২১৯ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিল। যার মধ্যে বস্তার অঞ্চলেই ২১৭ জন। বস্তার অঞ্চলটি এই অভিযানগুলির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা এখানেই ঘটেছে। এই অভিযানটি ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য অমিত শাহের নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সিপিআই (মাওবাদী)-এর সংগঠন গুরুতর ধাক্কা খেয়েছে। কারণ দলের সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজু এবং সামরিক নেতা মাদভি হিদমা-সহ নয়জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। সংগঠনটিতে অবশিষ্ট তিনজন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হল ওড়িশা-ভিত্তিক গণেশ উইকে; ছত্তিশগড়-ভিত্তিক কিন্তু বর্তমানে রাজ্যের বাইরে থাকা মাল্লারাজি রেড্ডি ওরফে সংগ্রাম; এবং ঝাড়খণ্ড-ভিত্তিক আনালদা ওরফে তুফান। 

‘পুনা মার্গেম’ এবং ‘মাড় বাঁচাও অভিযান’-এর মতো সরকারি উদ্যোগগুলি মাওবাদী ক্যাডারদের আত্মসমর্পণে উৎসাহিত করেছে। যার ফলে ২০২৫ সালে শুধু নারায়ণপুর জেলাতেই ২৯৮ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারী প্রত্যেক মাওবাদী ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন এবং ছত্তিশগড় সরকারের পুনর্বাসন নীতি থেকেও তাঁরা উপকৃত হবেন। আত্মসমর্পণের সংখ্যা বৃদ্ধি, মাওবাদীদের প্রভাবের অবক্ষয় এবং সরকারি প্রচেষ্টার প্রতি জনগণের আস্থাকেই তুলে ধরে।