আজকাল ওয়েবডেস্ক: যৌন নির্যাতনে বাধা। কিশোরকে নির্মমভাবে খুন তরুণের। দেহটি লুকিয়ে রাখলেন নিজের ফ্ল্যাটের বিছানার তলায়। সেই বিছানাতেই অসুস্থ ঠাকুমাকে ঘুমাতে বাধ্য করেন তরুণ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, ১৩ বছরের এক কিশোরকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। অভিযুক্ত নাইলনের দড়ি দিয়ে আটবার গলায় ফাঁস লাগিয়ে কিশোরকে খুন করেন। এরপর ইট দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে মুখটি ক্ষতবিক্ষত করেন। দেহটি লুকিয়ে রাখেন খাটের নীচে বাক্সে। এরপর সেই খাটেই অসুস্থ ঠাকুমাকে ঘুমাতে বাধ্য করেন অভিযুক্ত।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, খেলাধুলার মাঝেই অভিযুক্ত কিশোরের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছিল। যৌন নির্যাতনে বাধা দিতেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। কিশোরের বাড়ির অদূরেই সাততলা আবাসনের উপরে খুন করা হয়। এরপর ওই আবাসনের পাঁচতলার ফ্ল্যাটে দেহটি লুকিয়ে রাখেন অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজ ছিল। সেই রাতেই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। তদন্ত শুরু করতেই পরদিন সকালে ওই আবাসনের উপরে কিশোরের জামা উদ্ধার করে পুলিশ। রক্তের দাগ ছিল সেখানে। এরপর এক ২১ বছরের তরুণ এবং এক কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
মূল অভিযুক্ত পুলিশের সঙ্গেই তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল। তাঁর গায়ে আঁচড়ের দাগ দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয়। টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর খুনের ঘটনাটি তিনি স্বীকার করে নেন। এরপর বিছানার তলা থেকে কম্বলে মোড়ানো দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ২১ বছরের রেহান নামের তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত সপ্তাহে এই রাজ্যেই আরেকটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল। সাত বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন। অভিযোগ উঠেছে তার কাছের এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। যে ঘটনায় রীতিমতো শিউরে উঠেছেন স্থানীয়রা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, সাত বছর বয়সি নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। ১৭ বছর বয়সি অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। নাবালিকাকে খুনের পর, দেহটি খালের জলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বারোয়ারি জেলায়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২৬ জানুয়ারি ইন্দিরা সাগর খাল থেকে নাবালিকার দেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। রাজপু্র থানায় ঘটনাটি ঘিরে অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নাবালিকার দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
ময়নাতদন্তের পর জানা গেছে, খালের জলে ডুবেই নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতবিক্ষত ছিল তার গোপনাঙ্গ। অভিযুক্ত কিশোর পুলিশি জেরায় জানিয়েছে, ২৫ জানুয়ারি রাতে নাবালিকাকে বাড়ি থেকেই তুলে নিয়ে যায় সে। সেই সময় বাড়ির সদস্যরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। গভীর রাতে ওই খালের ধারেই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করে সে।
ধর্ষণের সময় যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে চিৎকার করেছিল নাবালিকা। তখনই তাকে ছুড়ে ফেলে খালে। সেখানেই জলে ডুবে তার মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার এবং পকসো ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
