আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের ফুটবলের শোচনীয় পরিস্থিতি। কোনওরকমে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নমো নমো করে শুরু হচ্ছে আইএসএল। তার আগে রবিবার এই বছরের বাজেটে দেশের ক্রীড়া বিভাগ নিয়ে একাধিক ঘোষণা করলেন নির্মলা সীতারামন।
ক্রীড়া ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে তৃণমূল স্তরে বড়সড় সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। লোকসভায় এদিন কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আগামী এক দশকে ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি নতুন ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’ চালুর ঘোষণা করেন।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই মিশন বর্তমান খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। তবে শুধুমাত্র প্রতিভা তুলে আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না।
কোচিং, প্রশিক্ষণ, পরিকাঠামো এবং স্পোর্টস সায়েন্সে দীর্ঘদিনের ঘাটতিগুলিকেও সমাধান করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়া ক্ষেত্র কর্মসংস্থান, দক্ষতা বাড়ানো এবং কাজের একাধিক সুযোগ তৈরি করে।
খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচির মাধ্যমে যে পদ্ধতিগতভাবে ক্রীড়া প্রতিভা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে, তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগামী এক দশকে ক্রীড়া ক্ষেত্রকে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে আমি একটি খেলো ইন্ডিয়া মিশন চালুর প্রস্তাব করছি।’
২০১৭ সালে শুরু হওয়া খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচি মূলত বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তৃণমূল স্তরে প্রতিভা চিহ্নিতকরণের ওপর জোর দিয়েছে। এই উদ্যোগে একাধিক প্রতিভা উঠে এলেও তাদের ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন মিশনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত প্রতিভা উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর আওতায় প্রাইমারি, সেকেন্ডারি এবং এলিট স্তরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
পাশাপাশি কোচ ও কর্মীদের পদ্ধতিগতভাবে গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণে স্পোর্টস সায়েন্স ও প্রযুক্তির সংযুক্তি এবং সারা দেশে ক্রীড়া সংস্কৃতি জোরদার করতে প্রতিযোগিতা ও লিগ আয়োজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী ক্রীড়া ক্ষেত্রের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত বিশ্বমানের ও সাশ্রয়ী ক্রীড়া সামগ্রীর একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এই লক্ষ্যে ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদনের জন্য একটি পৃথক উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত হবে খেলা সম্পর্কিত সামগ্রী।
তিনি বলেন, ‘ক্রীড়া সামগ্রীর জন্য একটি পৃথক উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করছি, যার মাধ্যমে উৎপাদন, সরঞ্জামের নকশা ও উপকরণ বিজ্ঞানে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া হবে।’
এর মাধ্যমে সরকারের বৃহত্তর উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যকেও ক্রীড়া খাতের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই ঘোষণা এমন এক সময়ে করা হল যখন ক্রীড়া মন্ত্রকের তরফে নিযুক্ত পুল্লেলা গোপীচাঁদের নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্স কোচদের জন্য ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম’-এর মতো একটি প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে।
যাতে এলিট অ্যাথলিটদের মতোই কোচরাও আর্থিক ও পেশাগত সহায়তা পান। ভারত আগামী দিনে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করতে চলেছে এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য বিড জমা দিয়েছে।
একাধিক খেলার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে যে শক্তিশালী প্রতিভার প্রয়োজন, প্রস্তাবিত খেলো ইন্ডিয়া মিশনকে সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
