আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওরা 'ডাইনি', ওদের মেরে ফেলতে হবে! ঝাড়খণ্ডের পালামৌতে ‘ডাইনি’ সন্দেহে একই পরিবারের তিনজনকে পরপর কুপিয়ে খুন করা হল৷ এই ঘটনায় সম্প্রতি ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতরা হলেন বিজয় ভুঁইয়া (৪৫), তাঁর স্ত্রী কালিয়া দেবী (৪০) এবং তাঁদের ১৮ বছরের ছেলে ছোটু ভুঁইয়া। ঘটনার জেরে আহত ওই দম্পতির নাবালিকা মেয়েও। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রবিবার সকালে বাড়ি থেকেই তাঁদের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লেসলিগঞ্জের এসডিপিও মনোজ কুমার ঝা জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে কুসংস্কারের জেরেই এই খুন। অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য মেদিনী রায় মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

স্রেফ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে এমন নৃসংসতা এই প্রথম নয়। গত বছর বিহারেও এক পরিবারের পাঁচজনকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল। ওড়িশাতেও ডাইনি অপবাদে বাবা ও ছেলেকে খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঝাড়খণ্ডের এই ঘটনায় উত্তপ্ত চারিদিক।

প্রসঙ্গত, আরেকদিকেও ভয়াবহ এক নৃশংসতা৷ মাত্র এক হাজার টাকা ভাড়া কম দিয়েছিলেন ভাড়াটিয়া। অভিযোগ, ভাড়া কম দেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে খুঁটিতে বেঁধে চরম মারধর করা হয়। ঘটনায় চূড়ান্ত অপমানিত বোধ করে সুইসাইড নোট লিখে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন ব্যক্তি। প্রায় দুই ঘণ্টা বাড়ির সামনে দেহ রেখে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি তোলে পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে ধূপগুড়ি পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধু পাড়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশবন্ধু পাড়ার বাসিন্দা অমর দে'র বাড়িতে প্রায় দেড় মাস ধরে ভাড়া ছিলেন ঝন্টু দাস। তিনি পেশায় একজন শিল্পী৷ বাজনা বাদক। এর পাশাপাশি পেট চালাতে টোটোও চালাতেন। ভাড়াটিয়া পরিবারের দাবি, প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া ঠিক হয়েছিল। 

মঙ্গলবার এক মাসের ভাড়া চার হাজার দেওয়া হয়েছিল, এবং বাকি এক হাজার টাকা কয়েকদিন পর দেওয়া হবে বলে জানানো হয় মালিককে। পরিবারের অভিযোগ, ভাড়ার ওই এক হাজার টাকা কম দেওয়ার জেরে ঝন্টু দাসকে বাড়ির সামনে খুঁটিতে বেঁধে বাড়ির মালিক বেধড়ক মারধর করেন। এরপর চরম অপমানে বুধবার ঝন্টু কীটনাশক পান করেন। পরবর্তীতে তাঁর পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়। ( সুইসাইড নোটের সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল.ইন ) 

অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থা ক্রমেই আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি৷ বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যক্তি।

এদিন ময়নাতদন্ত পর দেহ নিয়ে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের পাশে দাঁড়ায় এলাকার প্রতিবেশীরা। অন্যদিকে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে বাড়ির মালিক বাড়ি ছেড়ে চম্পট দিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের লিখিত অভিযোগ করতে বলেন।

মৃত ঝন্টু দাসের ছেলে সৌরভ দাস বলেন, " মাত্র এক হাজার টাকার জন্য বাবাকে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর বাবা কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে। বাবার পকেট থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা ওই বাড়ির মালিকের কঠোর শাস্তি চাই। " এক প্রতিবেশী অভিজিৎ সাহা বলেন, "ভাড়া কম দিয়েছিল বলে ঝণ্টুকে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করা হয়। সেই অপমান সহ্য করতে পারেনি ও।অভিমানে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে। আমরা পাড়া প্রতিবেশীরা বাড়ির মালিকের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।" পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হচ্ছে।