আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটা মস্ত বড় সিদ্ধান্তে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। মদ্যপানের অভ্যাস আর কমবয়সী যুবসমাজের ওপর তার কুপ্রভাব রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল তামিলনাড়ু প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর কোনও মদের দোকানেই এবার থেকে ২১ বছরের কম বয়সী কারও কাছে মদ বিক্রি করা যাবে না। শুধু সরকারি মদের দোকানই নয়, বড় বড় হোটেল বা নামী ক্লাবের বারগুলোর জন্যও এই নিয়ম একেবারে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মাঠে নেমে কাজ করার সময় যাতে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে, সেজন্য স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দোকান ও বারের কর্মীদের। মদ কিনতে আসা কোনও গ্রাহকের বয়স নিয়ে যদি বিন্দুমাত্র খটকা বা সন্দেহ জাগে, তবে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর কাছ থেকে বয়সের প্রমাণপত্র বা বার্থ প্রুফ দেখতে চাইতে পারবেন কর্মীরা। সঠিক নথিপত্র দেখিয়ে বয়স ২১ বা তার বেশি প্রমাণ করতে না পারলে খালি হাতেই ফিরতে হবে ক্রেতাকে।

আসলে দক্ষিণের এই রাজ্যটিকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত, সুস্থ এবং সামাজিকভাবে আরও দায়িত্বশীল করে তোলাই এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য পূরণেই ১৯৮১ সালের তামিলনাড়ু মদ সংক্রান্ত আইনকে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা।

নতুন এই নির্দেশিকায় শহরের নামী ক্লাবগুলোর ওপরও বেশ কিছু কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্লাবগুলোকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা যেন অবিলম্বে তাদের সমস্ত সদস্যদের জন্য মেম্বারশিপ আইডি কার্ড বা পরিচয়পত্র ইস্যু করে। ক্লাবের বারগুলোতে শুধুমাত্র নথিভুক্ত সদস্য এবং তাঁদের সঙ্গে আসা নির্দিষ্ট অতিথিদেরই মদ পরিবেশন করা যাবে, বাইরের কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না।

এখানেই শেষ নয়, কোনও ক্লাবই শুধুমাত্র 'বার' চালানোর উদ্দেশ্যে ব্যবসা করতে পারবে না। বার চালানোটা ক্লাবের অন্যান্য কাজকর্মের একটা অংশ মাত্র হতে পারে, কিন্তু সেটাই মূল ব্যবসা হতে পারবে না। ক্লাব কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে যে খেলাধুলো, সংস্কৃতি বা সামাজিক মেলবন্ধনের মতো যে উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে ক্লাব তৈরি হয়েছিল, সেগুলো যেন নিয়মিত বজায় থাকে। পাশাপাশি বারের জন্য সরকারিভাবে যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তার এক মিনিটও এদিক-ওদিক করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে লাইসেন্স বাতিল সহ কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার।