আজকাল ওয়েবডেস্ক: সংসার সামলানো মহিলাদের অবদান যে কোনও অংশে কম নয়, তা আজ আরও একবার স্পষ্ট করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পথ দুর্ঘটনায় কোনও গৃহবধূর মৃত্যু হলে বিমার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়েছে, এখন থেকে গৃহবধূ বা হোমমেকারদের ন্যূনতম কাল্পনিক মাসিক আয় ৩০,০০০ টাকা ধরে ক্ষতিপূরণ হিসাব করতে হবে। শুধু তাই নয়, বিচারপতিরা তাদের কেবল ‘গৃহবধূ’ বা ‘হোমমেকার’ না বলে, আক্ষরিক অর্থেই ‘দেশ গড়ার কারিগর’ বা ‘নেশন বিল্ডার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিং-এর ডিভিশন বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায়টি দেওয়ার সময় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন। আদালত বলে, কোনও পরিবারে একজন গৃহবধূর অক্লান্ত পরিশ্রম ও যত্নকে কেবল ঘরের চার দেওয়ালে আটকে থাকা দৈহিক বা মানসিক শ্রম হিসেবে দেখা ভুল। আজ তারা যেভাবে স্বামী ও সন্তানদের আগলে রাখছেন, তা আসলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছে। তাদের এই অবদান কোনো বেতনভোগী চাকুরিজীবীর চেয়ে কম নয়, বরং সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চালিকাশক্তিই গড়ে ওঠে এই অবৈতনিক শ্রমের ওপর ভিত্তি করে।
সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মোটর দুর্ঘটনা দাবি ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্টগুলি যখন কোনও গৃহবধূর মৃত্যুর মামলা বিচার করবে, তখন প্রচলিত অন্যান্য ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ‘পারিবারিক যত্নের ক্ষতি’ বা ‘লস অফ ডোমেস্টিক কেয়ার’ নামে একটি সম্পূর্ণ আলাদা ক্যাটাগরি যুক্ত করতে হবে। আর এই খাতেই ন্যূনতম মাসিক আয় ধরা হবে ৩০,০০০ টাকা। কোনও গৃহবধূ যদি বাইরে কোথাও চাকরি বা কাজ নাও করেন, তবুও এই টাকাটাকেই তার ন্যূনতম মাসিক আয় বা ‘স্ট্যান্ড-ইন’ ইনকাম হিসেবে ধরে পুরো ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কষতে হবে। আর যদি তিনি বাইরে কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তার প্রমাণিত বেতনের সঙ্গে এই ৩০,০০০ টাকা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে যোগ হবে। প্রতি তিন বছর অন্তর এই মূল অঙ্কের ওপর ১০ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলে, সমাজে প্রায়শই গৃহবধূদের পরিবারের অন্য উপার্জনকারী সদস্যদের ওপর ‘নির্ভরশীল’ বলে বর্ণনা করা হয়, যা অত্যন্ত পরিহাসের। বাস্তবে চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো; কারণ গোটা সংসারের ভালোমন্দের চাবিকাঠি থাকে একজন গৃহবধূর হাতেই। ফলে উপার্জনকারী সদস্যরাই আসলে পরোক্ষভাবে তার ওপর নির্ভরশীল। পাঞ্জাবের ২০০১ সালের একটি পুরনো পথ দুর্ঘটনার মামলার আপিল শুনানি করতে গিয়ে এই যুগান্তকারী রায়টি উঠে আসে। এতদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং নির্দেশ দিয়েছে যে, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণের সমস্ত মামলা যেন সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়। দেশের সমস্ত রাজ্যের প্রধান বিচারপতিদের এই নিয়ম কঠোরভাবে তদারকি করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।















