শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। ঘাম, পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস-এসব মিলেই দৈনন্দিন ‘বডি অডর’ তৈরি হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট ও অস্বাভাবিক ধরনের শরীরের গন্ধ কখনও কখনও রোগের আগাম বার্তা দিতে পারে। এমনই সাত ধরনের গন্ধ রয়েছে যা গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ।
প্রথম যে গন্ধটির উল্লেখ করা হয় তা হল নেইল-পলিশ রিমুভারের মতো অ্যাসেটোনের গন্ধ। অনেকে শরীর থেকে হালকা ‘ফ্রুটি’ টাইপ গন্ধ টের পান। চিকিৎসকদের মতে, এই গন্ধ শরীরে কিটোন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ যা নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিসে ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে দেরি করলে জীবনহানিও হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ভিনেগার বা টক ধরনের গন্ধও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। অনেক সময় থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে বা মেটাবলিজম অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত হলে শরীর টক ধরনের ঘ্রাণ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হাইপারথাইরয়েডিজম-এর প্রাথমিক দিকের ইঙ্গিত হতে পারে।
তৃতীয় যে গন্ধটি উল্লেখযোগ্য, তা হল অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র গন্ধ। সাধারণত কিডনি শরীরের টক্সিন ছেঁকে বের করে। কিন্তু কিডনি দুর্বল হলে বা কিডনি ফেইলিওরের শুরুর দিকে শরীর থেকে অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ বের হতে পারে।
চতুর্থত, অনেকে ইস্ট বা মিষ্টি গন্ধ অনুভব করতে পারেন বিশেষত ত্বকের ভাঁজে যেমন বাহুমূলে, বুকের নিচে, বা কুঁচকিতে। এটি সাধারণত ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ইঙ্গিত। ঘাম, আর্দ্রতা এবং ব্যাকটেরিয়া মিলেই এমন গন্ধ তৈরি হয়।
পঞ্চমত, খুব কম দেখা গেলেও পচা মাছের মতো গন্ধ নিয়ে আসে ট্রাইমেথিলামিনুরিয়া নামের বিরল এক মেটাবলিক ডিসঅর্ডার। এই অবস্থায় শরীর নির্দিষ্ট রাসায়নিক ভাঙতে পারে না এবং তা ঘাম, নিঃশ্বাস ও প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়, যার গন্ধ অত্যন্ত তীব্র।
এছাড়াও মাস্টি বা ভেজা ঘরের মতো গন্ধ লিভারের রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। লিভার দুর্বল হলে শরীর টক্সিন ভাঙতে পারে না এবং সেই রাসায়নিক পরিবর্তন থেকেই ভেজা বেসমেন্টের মতো গন্ধ বের হয়।
ধাতব বা তিক্ত ধরনের গন্ধ দেখা দিলে সতর্ক হতে হয়। ত্বকে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, ক্ষত, এমনকি কিছু ওষুধের প্রতিক্রিয়াতেও এমন গন্ধ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব গন্ধই যে রোগের সংকেত এমনটা নয়। কিন্তু যদি হঠাৎ শরীরের গন্ধ পাল্টে যায়, দীর্ঘদিন থাকে, বা স্নান-পরিচ্ছন্নতার পরও না দূর না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
