ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আর সামরিক মহড়ার উত্তেজনার মাঝে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি নতুন করে বিশ্বের বুকে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পরমাণু অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা নিয়ে চর্চা আবার তুঙ্গে।
2
11
কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, আধুনিক বিশ্বের কাছে ঠিক কতটা ভয়ংকর পরমাণু অস্ত্র রয়েছে আর বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু বোমার অধিকারীই বা কোন দেশ।
3
11
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯৪৫ সালের অগাস্ট মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের আঘাত দেখেছিল পৃথিবী।
4
11
আমেরিকার তৈরি 'লিটল বয়' ফেলা হয়েছিল জাপানের হিরোশিমায় এবং তার কয়েক দিন পরই 'ফ্যাট ম্যান' আছড়ে পড়ে নাগাসাকিতে। ১৫ ও ২৫ কিলোটন ক্ষমতার ওই দুটি বোমার তাণ্ডবে নিমেষেই ছাই হয়ে গিয়েছিল দুটি শহর এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ।
5
11
তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত সেই বোমার চেয়েও হাজার হাজার গুণ শক্তিশালী অস্ত্র তৈরি রয়েছে রাশিয়ার ভাণ্ডারে। বিশ্বের এযাবৎকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী ও শক্তিশালী এই পরমাণু বোমার নাম ‘জার বোম্বা’ (Tsar Bomba)।
6
11
সোভিয়েত আমলের এই বোমার মূল নকশা করা হয়েছিল ১০০ মেগাটন বিস্ফোরক ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তা এবং পরিবেশগত ভয়াবহ ক্ষতির কথা বিবেচনা করে এর ক্ষমতা ৫০ মেগাটনে কমিয়ে আনা হয়।
7
11
তা সত্ত্বেও, হিরোশিমায় ফেলা লিটল বয়ের চেয়ে এই জার বোম্বা প্রায় তিন হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। ১৯৬১ সালের অক্টোবরে আর্কিটিক সার্কেলের নোভায়া জেমলিয়া দ্বীপে এক পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল।
8
11
বিমান থেকে ফেলা এই বোমার বিস্ফোরণে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আগুনের গোলা তৈরি হয় এবং ধোঁয়ার মাশরুম মেঘ উঠে যায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার উঁচুতে, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছাড়িয়ে মহাকাশের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
9
11
বিজ্ঞানীদের মতে, জার বোমার মতো মাত্র কয়েকটি বোমা পৃথিবীর বড় বড় শহরের ওপর ফেলা হলে ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সব কাঠামো মুহূর্তে ধুলোয় মিশে যাবে। শতাধিক কিলোমিটার দূরের জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হতে পারে এবং হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হতে পারে।
10
11
এর থেকে নির্গত মারাত্মক তেজস্ক্রিয়তা আর বিশ্বব্যাপী অগ্নিঝড় পুরো পৃথিবীকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জীববৈচিত্র্য এবং মানবজাতির বসবাসের একদম অযোগ্য করে তুলতে পারে।
11
11
সৌভাগ্যবশত, ক্ষমতার এমন নির্মম প্রদর্শনীর পর এটি আর কোনও যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়নি। তবে বর্তমানে একাধিক দেশের হাতে থাকা মোট পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার বিশ্ববাসীকে অনবরত মনে করিয়ে দেয় যে, সামান্যতম ভুলে তৈরি হওয়া একটা বিশ্বযুদ্ধই পুরো মানব সভ্যতার ইতি টানার জন্য যথেষ্ট।