একজন সরকারি আধিকারিকের সুনাম সাধারণত তাঁর পদমর্যাদার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তুকারাম মুন্ডের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর সুনাম গড়ে উঠেছে, তিনি যেখানে কাজ করতে গিয়েছেন, সেই কাজের উপর ভিত্তি করেই।
2
15
তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে শুধু অভিযানগুলোই নয় বরং তাঁর কর্মজীবনের গতিপথ। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ বছরের কর্মজীবনে তাঁকে ২৫ বার বদলি করা হয়েছে।
3
15
গত ২৫ মে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তুকারাম রাজ্যজুড়ে পাইকারি বিক্রেতা, উৎপাদক, খুচরো বিক্রেতা এবং রেস্তরাঁগুলিতে চালানো একাধিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
4
15
এই অভিযানগুলিতেই গুরুতর ত্রুটি সামনে এসেছে। পদক্ষেপ হিসেবে লাইসেন্স স্থগিত করা, নমুনা বাজেয়াপ্ত করা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কে এই তুকারাম মুন্ধে?
5
15
তুকারামের নিজের জীবনের শুরু আমলাতান্ত্রিক জগত থেকে অনেক দূরে। ১৯৭৫ সালের ৩ জুন বিড জেলার তাদসোনা গ্রামে তাঁর জন্মগ্রহণ। কৃষক পরিবারে বড় হয়েছেন। তাঁর সময় কাটত জেলা পরিষদের স্কুলে এবং পারিবারিক খামারে কাজ করে।
6
15
অনেকের মতে, সেই ভিত্তিই তাঁকে দায়িত্ব পাওয়ার অনেক আগে থেকে দৈনন্দিন প্রশাসনিক জটিলতা সমাধানের ক্ষমতা তৈরি করে দিয়েছিল। ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর মারাঠওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকের পর, তিনি ২০০৪ সালে সর্বভারতীয় র্যাআঙ্ক ২০ নিয়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ২০০৫ ব্যাচে আইএএস হিসেবে যোগদান করেন।
7
15
২০১৪ সালে সোলাপুরের জেলা কালেক্টর হিসেবে তাঁর কার্যকাল সবচেয়ে আলোচ্য। ‘জলযুক্ত শিভার’ কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার দীর্ঘস্থায়ী জল সঙ্কট মোকাবিলা করে তাঁর প্রশাসন বেশ কয়েকটি গ্রামকে জলের ট্যাঙ্কারের উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে তিনি ‘মহারাষ্ট্রের জলমানব’ উপাধি লাভ করেন।
8
15
পরবর্তীতে, নভি মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার হিসেবে তিনি আরও খ্যাতি অর্জন করেন। অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, সম্পত্তি কর আদায় উন্নত করা এবং শুধুমাত্র কাগজপত্রের মাধ্যমে নয়, বরং নাগরিক সমস্যাগুলি সরাসরি দেখার জন্য ভোরবেলায় হাঁটতে বেরিয়ে যেতেন।
9
15
ঘন ঘন ট্রান্সফার তাঁর কেরিয়ারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ট্রান্সফারের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। কারণ সেটির হিসাব বিভিন্ন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই ট্রান্সফারের ধারাই জনসাধারণের কাছে তুকারামকে শ্রেষ্ঠ করে তুলেছে।
10
15
তাঁর বর্তমান কার্যকাল ইতিমধ্যেই শহরের খাদ্য জগতে একটি ছাপ ফেলেছে। নূর মহম্মদি হোটেল, শালিমার রেস্তরাঁ, কে রুস্তম অ্যান্ড কোং, ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়া, উইলিংডন স্পোর্টস ক্লাব এবং জুহু জিমখানার মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাময়িকভাবে বন্ধ বা লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
11
15
এই হোটলগুলিতে এফডিএ-র দল পোকামাকড়ের উপদ্রব ও দুর্বল স্যানিটেশন থেকে শুরু করে অনুপযুক্ত সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যবিধির ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে।
12
15
এই প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ করেছে। কিন্তু অভিযানগুলি ভারতের অন্যতম খাদ্যপ্রেমী শহরের খাদ্য সুরক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
13
15
এরপর থেকে এফডিএ-র তৎপরতা আরও বেড়েছে। গত ১২ আগস্ট, এফডিএ রাজ্যব্যাপী আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারকদের কারখানায় পরিদর্শন শুরু করে। ১৯৪০ সালের ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪৫ সালের ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস রুলস এবং শিডিউল টি-এর গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস নিয়মাবলীর ভিত্তিতে ৪৩৪টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইউনিটকে খতিয়ে দেখেছে।
14
15
ওষুধের নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এমন গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ১৩৫টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ১০টির লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
15
15
পরিদর্শকরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানগুলি যোগ্য কর্মী ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। সেগুলির মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর ছিল, পরীক্ষার সরঞ্জাম অনুপস্থিত ছিল, কারখানাগুলি ছিল অস্বাস্থ্যকর, লেবেলিং ছিল ভুল এবং ব্যাচ ও কাঁচামালের রেকর্ড অসম্পূর্ণ ছিল।