বিশ্বের অন্যতম পরিচিত প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষকর্তা সুন্দর পিচাই৷ গুগল আর অ্যালফাবেট Google ও Alphabet-এর CEO হিসেবে গোটা বিশ্বের প্রযুক্তি জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন সুন্দর পিচাই।
2
16
কিন্তু তাঁর এই জগতজোড়া সাফল্যের নেপথ্যে ভারতের এক সাধারণ স্কুল এবং মধ্যবিত্ত জীবন৷ কোনও বিলাসবহুল বিদেশি স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেননি সুন্দর পিচাই৷
3
16
সুন্দর পিচাইয়ের আসল নাম পিচাই সুন্দররাজন। ১৯৭২ সালের ১০ জুন তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা রঘুনাথ পিচাই ছিলেন একজন ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার৷ এবং মা লক্ষ্মী ছিলেন স্টেনোগ্রাফার৷
4
16
সুন্দর পিচাইয়ের স্কুলজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে চেন্নাইয়ে। তিনি জওহর বিদ্যালয় সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল অশোক নগর থেকে পড়াশোনা করেন। এরপর দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা করেন আইআইটি মাদ্রাজের বণবাণী স্কুলে৷
5
16
স্কুলজীবন থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলিতে তাঁর ঝোঁক ছিল । তবে শুধু পড়াশোনায় ভালো ফল করাই তাঁর সাফল্যের একমাত্র কারণ ছিল না।
6
16
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন শান্ত, মিতভাষী এবং কৌতূহলী। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ এবং সমস্যার সমাধান করার মানসিকতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম শক্তি হয়ে ওঠে।
7
16
স্কুল শেষে সুন্দর পিচাই ভর্তি হন দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়্গপুরে। সেখানে তিনি বিটেক করেন Metallurgical Engineering নিয়ে। ১৯৯৩ সালে স্নাতক হন। তাঁর পড়াশোনার বিষয়ও সরাসরি কম্পিউটার সায়েন্স ছিল না। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা এবং প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তাঁকে ধীরে ধীরে অন্য পথে নিয়ে যায়৷
8
16
আইআইটি খড়্গপুর থেকে বিটেক শেষ করে সুন্দর পিচাই পাড়ি দেন আমেরিকায়। তিনি ভর্তি হন স্ট্যান্ডফোর্ড ইউনিভার্সিটি (Stanford University)-তে।
সেখানে তিনি মেটিরিয়ালস সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং (Materials Science and Engineering) নিয়ে এমএস (MS) ডিগ্রি অর্জন করেন।
9
16
Stanford-এর মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা তাঁর প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে আরও বিস্তৃত করে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা এবং শিল্পক্ষেত্রে তার প্রয়োগ সম্পর্কে তাঁর ধারণা আরও গভীর হয়।
10
16
ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার পর সুন্দর পিচাই নিজের শিক্ষাজীবনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ পেনিসিলভানিয়ার বিখ্যাত হোয়ার্টন স্কুল থেকে এমবিএ করেন। প্রথমে ইঞ্জিনিয়ারিং, তারপর materials science এবং শেষে business management—এই তিন ধরনের শিক্ষার সমন্বয় পরবর্তীতে তাঁর পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
11
16
হোয়ার্টন স্কুলে পড়ার সময়ও তাঁর মেধার স্বীকৃতি মেলে। তিনি সিয়েবল স্কলার এবং পালমার স্কলার হিসেবে সম্মানিত হন। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর সুন্দর পিচাই প্রথমে প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত ক্ষেত্রে কাজ করেন।
12
16
তিনি অ্যাপ্লায়েড মেটিরিয়ালস- এ কাজ করেন এবং পরে ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ফার্মে যোগ দেন৷ কিন্তু
২০০৪ সালে সুন্দর পিচাইয়ের Google-এ যোগদান তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
13
16
প্রথমদিকে Google-এর বিভিন্ন প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে যুক্ত ছিলেন সুন্দর পিচাই৷ এরপর ধীরে ধীরে Google-এর গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলির দায়িত্ব তাঁর হাতে আসতে থাকে। বিশেষত গুগল ক্রোম আর ক্রোম ওএস-এর উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা তাঁকে Google-এর ভিতরে দ্রুত পরিচিত করে তোলে। ২০১৩ সালে তাঁর দায়িত্বের তালিকায় যোগ হয় Android। এরপর Google-এর মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তাঁর নেতৃত্বে Google-এর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ product ও service-এর উন্নয়ন ঘটে। ধীরে ধীরে কোম্পানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ executive হিসেবে উঠে আসেন তিনি।
14
16
দীর্ঘ কর্মজীবন ও একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পর ২০১৫ সালে সুন্দর পিচাইকে Google-এর CEO করা হয়। চেন্নাইয়ের স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি সংস্থার CEO হওয়া—তাঁর এই যাত্রা রাতারাতি তৈরি হয়নি। এর পিছনে ছিল দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং Google-এর ভিতরে বছরের পর বছর ধরে দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা।
15
16
Google-এর CEO হওয়ার কয়েক বছর পর আরও বড় দায়িত্ব পান সুন্দর পিচাই। ২০১৯ সালে তিনি Alphabet Inc.-এর CEO হন। Alphabet হল Google-এর parent company। অর্থাৎ Google-এর পাশাপাশি Google-এর মূল সংস্থারও নেতৃত্ব তাঁর হাতে আসে।
বর্তমানে তাই সুন্দর পিচাই শুধু Google-এর শীর্ষকর্তাই নন, Alphabet-এরও CEO।
16
16
একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে প্রযুক্তি বোঝা, Stanford-এর মাধ্যমে advanced science ও engineering-এর জ্ঞান অর্জন এবং Wharton-এর মাধ্যমে business ও management শেখা—এই সমন্বয় তাঁর কর্মজীবনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।