তিনি আজ দক্ষিণ থেকে বলিউড-সব জায়গার পরিচিত এক তারকা। কিন্তু এক সময় এই মানুষটাই ছিলেন একজন শিক্ষক। প্রেমে পড়েছিলেন নিজের ছাত্রীকে দেখে। তারপর? বিয়ের আগে টানা আট বছরের অপেক্ষা। কে সেই ছাত্রী, যিনি পরবর্তীতে হয়ে উঠলেন তাঁর জীবনসঙ্গী? আর কীভাবেই বা সেই প্রেমের গল্প জড়িয়ে গেল তাঁর তারকাখ্যাতির উত্থানের সঙ্গে?এই প্রশ্নগুলোর উত্তর লুকিয়ে আছে আর মাধবনের জীবনের একেবারে শুরুর পাতায়।
2
8
২০০০ সালে মণি রত্নমের ‘আলাইপাইউথে’ ছবির হাত ধরে তামিল ছবিতে আত্মপ্রকাশ করেন আর মাধবন। চকোলেট-বয় লুক, সহজ স্বাভাবিক অভিনয় -এক ঝটকাতেই তরুণীদের হৃদয়ে পাকাপাকি জায়গা করে নেন তিনি। তার পরেই আসে ‘মিন্নালে’, যা তাঁকে বানিয়ে দেয় বাণিজ্যিক ছবির তারকা।
3
8
এরপর একের পর এক প্রশংসিত ছবি ‘আয়ুধা এঝুথু’, ‘আনবে শিবম’, ‘কন্নাথিল মুথামিট্টাল’ প্রমাণ করে দেয়, শুধু রোমান্টিক নায়ক নয়, অভিনয়ের গভীরতাতেও তিনি অনন্য।
4
8
শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, পরিচালক হিসেবেও নিজের জাত চেনান মাধবন। ‘রকেট্রি: দ্য নম্বি ইফেক্ট’ পরিচালনা করে তাক লাগান দর্শক-সমালোচক সবাইকে। সাম্প্রতিক ছবি ‘ধুরন্ধর’ নাকি বক্স অফিসে ছুঁয়েছে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার গণ্ডি।
5
8
কিন্তু এই সাফল্যের আগে ছিল একেবারে অন্যরকম জীবন।ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা আর মাধবন পড়াশোনা করেছিলেন ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। তবে বাবা-মায়ের অনুরোধে শুরু করেন স্কিল ম্যানেজমেন্ট ট্রেনার হিসেবে কাজ। সেই সূত্রেই মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে তাঁর জীবনে আসে এক মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।
6
8
সেখানেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় এক তরুণীর। নাম, সরিতা বিরজে। তিনি তখন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং সেই কারণেই মাধবনের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে আসেন। কোর্স শেষ করে সরিতা নির্বাচিতও হন। কৃতজ্ঞতা জানাতে একদিন ডিনারের আমন্ত্রণ আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁদের প্রেমের গল্প।
7
8
তারপর আর কোনও তাড়াহুড়ো নয়। টানা আট বছর সম্পর্কে থাকার পর, ১৯৯১ সালে হিন্দু রীতি মেনে বিয়ে করেন মাধবন ও সরিতা। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা মজা করে বলেছিলেন,“স্ত্রীর সঙ্গে কোনও তর্কে কোনও স্বামী কখনও জিততে পারে না।”
8
8
আজ তাঁদের একমাত্র ছেলে বেদান্ত মাধবন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামকরা সাঁতারু। মালয়েশিয়া ওপেন, ড্যানিশ ওপেন, খেলো ইন্ডিয়ার মতো প্রতিযোগিতায় একাধিক সোনা জিতেছে সে।