১০৭ দিনের সংঘাতের পর আমেরিকা ও ইরান সুইজারল্যান্ডের ব্রগেনস্টক রিসোর্টে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় মুখোমুখি হয়েছে। উভয় পক্ষ চুক্তির বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
2
18
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তিটি ১৯ জুন থেকে কার্যকর হবে এবং এটি ভারতের জন্য অর্থনৈতিক স্বস্তি বয়ে আনবে।
3
18
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করার কারণে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ পথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
4
18
চুক্তির পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসের চালান স্বাভাবিক হওয়ায় পেট্রল, ডিজেল এবং তরল পেট্রলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
5
18
এই চুক্তিটি পরিবহন ও উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা সারা দেশের বিভিন্ন শিল্প এবং উপভোক্তাদের জন্য লাভজনক হবে।
6
18
অপরিশোধিত তেলের দাম কমে গেলে সিন্থেটিক ফাইবার, রাবার, প্লাস্টিক এবং পেট্রোকেমিক্যালের মতো পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক কাঁচামাল সস্তা হবে।
7
18
এর ফলে, পোশাক, সাবান, ডিটারজেন্ট, প্রসাধনী, ওষুধ, টায়ার এবং এমনকি কৃষি উপকরণের মতো পণ্যগুলিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও সাশ্রয়ী হতে পারে।
8
18
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে সমগ্র বিশ্ব এক ভয়াবহ তেল সঙ্কটের মুখোমুখি হয়। এর ফলে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে যায়।
9
18
হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে গেলে অপরিশোধিত তেল আমদানি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ বাড়াবে এবং দাম কমাবে। এর ফলে অবশেষে ভারতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম কমতে পারে।
10
18
ভারত এলপিজি আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, এর প্রায় ৮৮ শতাংশ এলপিজি আমদানি এই পথের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।
11
18
হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হলে পর্যাপ্ত এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত হবে, যা সরকারকে দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং ভর্তুকির বোঝা কমাতে সাহায্য করবে।
12
18
এর সুফল সরাসরি গৃহস্থালি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছতে পারে। ডিজেল শুধু পরিবহনেই নয়, কৃষি, কোল্ড স্টোরেজ এবং লজিস্টিকসেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
13
18
এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ফল, শাকসবজি এবং অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য পরিবহনে খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও, উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আমদানি করা সার ভারতীয় কৃষির জন্য অপরিহার্য। ডিজেল এবং সারের দাম কমলে খাদ্যপণ্যের দামও কমে আসতে পারে।
14
18
প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যের দাম কমতে পারে। পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক কাঁচামালের দাম কমে যাওয়ায় কোল্ড ক্রিম, বডি লোশন, লিপস্টিক, কাজল (আইলাইনার)-এর দাম হ্রাস পেতে পারে।
15
18
জুতোর দাম কমতে পারে। পোশাক এবং গৃহসজ্জার সামগ্রীর দাম কমতে পারে। সিন্থেটিক ফাইবার এবং পেট্রোকেমিক্যাল-ভিত্তিক উপকরণের খরচ কমে যাওয়ায় খেলাধুলার পোশাক, তৈরি পোশাক, পর্দা, কার্পেটের মতো পণ্যের দাম কমতে পারে।
16
18
চিকিৎসা সামগ্রী আরও সাশ্রয়ী হতে পারে। বেশ কিছু স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রীর দাম কমতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে ওষুধ, সিরিঞ্জ, গ্লুকোজের বোতল, মেডিকেল টিউব, দস্তানা, ফেস মাস্ক।
17
18
কৃষি উপকরণের দাম কমতে পারে। শস্যকে কীটপতঙ্গ ও রোগের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত বেশ কিছু কীটনাশক ও রাসায়নিক পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি হয়। অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে এগুলির উৎপাদন খরচ কমে যেতে পারে, যার ফলে লাভবান হবেন কৃষকরা।
18
18
অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে থাকলে, জ্বালানির দামের পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতিও কমতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) সুদের হার কম রাখতে বা এমনকি তা আরও কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বাধীনতা পেতে পারে।