প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে যে জলবায়ুগত ঘটনা ঘটে, তাকে বলা হয় এল নিনো। তবে যখন এই উষ্ণতা অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছে যায় এবং তার প্রভাব বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার রূপ নেয়, তখন বিজ্ঞানীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে তাকে 'গডজিলা এল নিনো' বলে উল্লেখ করেন।
2
10
'গডজিলা' শব্দটি এসেছে জাপানের বিখ্যাত দানব চরিত্র থেকে। অর্থাৎ, সাধারণ এল নিনোর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ব্যাপক প্রভাব ফেলতে সক্ষম একটি সুপার এল নিনোকে বোঝাতেই এই নাম ব্যবহার করা হয়।
3
10
গডজিলা এল নিনো সাধারণত তখনই বলা হয়, যখন মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি বেড়ে থাকে। এই অতিরিক্ত উষ্ণতা বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চলাচল, বৃষ্টিপাতের ধরণ এবং বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায়।
4
10
এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ছিল ২০১৫-১৬ সালের এল নিনো, যা গত কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে পরিচিত। ওই সময় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র খরা, দাবানল, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল। অনেক দেশেই কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
5
10
ভারতের ক্ষেত্রেও গডজিলা এল নিনোর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত অনেকাংশেই প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ুগত অবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
6
10
শক্তিশালী এল নিনোর সময় ভারতে বর্ষা দুর্বল হতে পারে, ফলে বৃষ্টির ঘাটতি, জলসংকট এবং কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা বেড়ে যায়। ধান, ডাল, আখ ও অন্যান্য খরিফ ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানীয় জলের সরবরাহ এবং খাদ্যদ্রব্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
7
10
তবে সব এল নিনো যে একই রকম প্রভাব ফেলে, তা নয়। এর তীব্রতা, স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য জলবায়ুগত উপাদান—যেমন ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল বা লা নিনা—মিলিয়ে চূড়ান্ত প্রভাব নির্ধারিত হয়। অনেক সময় ইতিবাচক এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।
8
10
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যতে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। যদিও জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি গডজিলা এল নিনো সৃষ্টি করে—এমন প্রমাণ এখনও নিশ্চিত নয়, তবে উষ্ণ পৃথিবীতে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।
9
10
সার্বিকভাবে, গডজিলা এল নিনো এমন একটি শক্তিশালী জলবায়ুগত ঘটনা, যা শুধু একটি অঞ্চলের নয়, গোটা বিশ্বের আবহাওয়া, কৃষি, অর্থনীতি এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
10
10
তাই আবহাওয়াবিদরা এর গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।