আট বছর, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান। বাসের কোনওরকম ভাড়া বাড়ানো হয়নি। পুজোর পরেই রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি বাস-মিনিবাসের ভাড়া পুনর্বিন্যাসের পথে হাঁটতে পারে রাজ্য সরকার। গতকাল, সোমবার সরকারি পরিবহণ নিগম এবং বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।
2
7
তবে নতুন ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাস মালিকদের বর্তমান দাবি নয়, আগের সরকারের আমলে তৈরি হওয়া দু’টি সরকারি কমিটির রিপোর্টও বিবেচনায় আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। ভাড়া-বৃদ্ধি নিয়ে ২০২১ এবং ২০২২ সালে দু’টি পৃথক কমিটি গঠন করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি ওই দুই কমিটি বাসের ভাড়া পুনর্বিন্যাসের পক্ষে সুপারিশ করেছিল বলে সূত্রের দাবি।
3
7
প্রথম কমিটি ন্যূনতম দু’টাকা ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। দ্বিতীয় কমিটি আবার বর্তমান ভাড়া কাঠামোর ‘স্টেজ’ চার কিলোমিটার থেকে কমিয়ে তিন কিলোমিটার করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই রিপোর্টগুলি প্রকাশ্যে আসেনি। এ বার নতুন করে ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হলে ওই অপ্রকাশিত রিপোর্ট দু’টির সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারি-বেসরকারি বাস এবং মিনিবাসের সমস্ত স্টেজের ভাড়াই পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
4
7
শেষ বার ২০১৮ সালের ১১ জুন রাজ্যে বাসভাড়া বৃদ্ধি হয়েছিল। তারপর জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রাংশের খরচ বাড়লেও সরকারিভাবে ভাড়ার কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন হয়নি। বাস মালিকদের একাংশের দাবি, বর্তমান ভাড়ায় পরিষেবা চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহার বক্তব্য, শেষ বার ভাড়া বৃদ্ধির সময় ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৬৯ টাকা ছিল। বর্তমানে তা ১০০ টাকার আশপাশে।
5
7
পরিবহণমন্ত্রীও গতকাল বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভাড়া বাড়ানোর সঙ্গে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করার বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। ফলে নতুন ভাড়া কাঠামোর সঙ্গে পরিষেবার মান, বাসের সংখ্যা এবং যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য নিয়েও পরিবহণ দপ্তর নির্দিষ্ট শর্ত দিতে পারে বলে সূত্রের খবর।
6
7
এ দিকে বাসের ক্ষেত্রে আরও একটি আর্থিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে রাজ্য। রাতে রাস্তার পাশে বাস রাখার জন্য বাস মালিকদের কাছ থেকে মাসে বাস-পিছু ৭০০ টাকা করে নাইট পার্কিং ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগে এই ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত থাকলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ত না বলে অভিযোগ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় ওই টাকা সরাসরি পরিবহণ দপ্তরের মাধ্যমে আদায় করা হবে।
7
7
অর্থাৎ, একদিকে দীর্ঘ আট বছর পর বাসভাড়ার নতুন কাঠামো তৈরির প্রস্তুতি, অন্যদিকে বাস মালিকদের উপর নাইট পার্কিং ফি—দু’টি সিদ্ধান্ত একসঙ্গে কার্যকর হলে রাজ্যের বাস পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আর্থিক পুনর্বিন্যাস হতে চলেছে।