আজ ১২ অগস্ট। আর এই দিনটিকে ঘিরেই ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াতে শুরু করেছে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারানোর পুরনো গুজব। দাবি করা হচ্ছে, আজ রাত ৮টা ৩ মিনিটে ভারতীয় সময় অনুযায়ী পৃথিবী নাকি প্রায় সাত সেকেন্ডের জন্য মাধ্যাকর্ষণহীন হয়ে পড়বে।
2
11
সেই সময় মানুষ থেকে শুরু করে পৃথিবীর সমস্ত বস্তু বাতাসে ভাসতে থাকবে। তবে এই দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
3
11
এই গুজবের সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই। তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, ১২ অগস্ট ২০২৬ রাত ৮টা ৩ মিনিটে পৃথিবীতে একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা ঘটবে। এমনকি বলা হয়, নাসা নাকি বহু বছর আগে থেকেই এই ঘটনার কথা জানে এবং ২০১৪ সাল থেকে গোপনে একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
4
11
ভাইরাল পোস্টগুলিতে আরও দাবি করা হয়, কয়েক মিলিয়ন বছর আগে দুটি কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই সংঘর্ষ থেকে তৈরি মহাকর্ষীয় তরঙ্গ নাকি পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে।
5
11
পৃথিবীতে সেই তরঙ্গ আছড়ে পড়ার মুহূর্তেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ‘বাতিল’ হয়ে যাবে। ফলে প্রায় ৭.৩ সেকেন্ডের জন্য মানুষ এবং পৃথিবীর অন্যান্য বস্তু ভাসতে থাকবে বলে দাবি করা হয়।
6
11
গুজবকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে একটি কথিত গোপন প্রকল্পের কথাও ছড়ানো হয়। পোস্টগুলিতে দাবি করা হয়, এই প্রকল্পের আওতায় নাসা নাকি গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের সুরক্ষিত রাখতে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার তৈরি করেছে।
7
11
গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলিতে নাকি গোপনে বিশেষ টেথারিং সিস্টেম বসানো হয়েছে, যাতে মাধ্যাকর্ষণ চলে গেলে ভবন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভেসে না যায়। এমনকি প্রকল্পটির জন্য ৮৯ বিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় প্রায় ৯০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলেও দাবি করা হয়।
8
11
কিন্তু বাস্তবে এই পুরো গল্পই ভিত্তিহীন। নাসার তরফে আগেই এই ধরনের গুজব খারিজ করা হয়েছে। সংস্থার এক মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ১২ অগস্ট পৃথিবী তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারাবে না।
9
11
বৈজ্ঞানিকভাবে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ তার ভরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। পৃথিবীর মোট মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নির্ধারিত হয় তার কেন্দ্র, ম্যান্টল, ভূত্বক, মহাসাগর, স্থলভাগের জল এবং বায়ুমণ্ডল—অর্থাৎ পৃথিবী ব্যবস্থার সামগ্রিক ভরের ভিত্তিতে। তাই কয়েক সেকেন্ডের জন্য হঠাৎ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ‘বন্ধ’ হয়ে যাওয়ার মতো কোনও স্বাভাবিক মহাজাগতিক প্রক্রিয়া নেই।
10
11
কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ থেকে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ তৈরি হওয়া অবশ্যই বাস্তব ঘটনা। বিজ্ঞানীরা অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে এমন তরঙ্গ শনাক্তও করেছেন। কিন্তু সেই তরঙ্গ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য সম্পূর্ণ বাতিল করে দেবে—এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
11
11
ফলে ১২ অগস্ট রাত ৮টা ৩ মিনিটে পৃথিবীর মানুষ ভাসতে শুরু করবে, কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হবে এমন কোনও আশঙ্কার কারণ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো চাঞ্চল্যকর দাবির বদলে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক সূত্রের তথ্যের উপরই ভরসা করা উচিত।