ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে প্রথম 'গ্র্যামি' মনোনয়ন, বাংলা থেকে বলিউড, গজল থেকে আইটেম নাম্বার, আবহমান আশা
নিজস্ব সংবাদদাতা
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ : ৫৪
শেয়ার করুন
1
11
কিছু কণ্ঠ শুধু গান গায় না, সময়কে ধরে রাখে। কিছু শিল্পী শুধু গান তৈরি করেন না, প্রজন্মের স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠেন। আশা ভোঁসলে তেমনই এক নাম।দশকের পর দশক পেরিয়ে তাঁর কণ্ঠে এসেছে প্রেম, বিরহ, আনন্দ, অভিমান, উচ্ছ্বাস থেকে শুরু করে গভীর আধ্যাত্মিকতা। সময় বদলেছে, গানের ধরন বদলেছে, শ্রোতার রুচি বদলেছে—কিন্তু তাঁর কণ্ঠের আবেদন ফুরোয়নি।
2
11
সত্যিকারের শিল্পী সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যান না, সময়ের সঙ্গে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন। সংগীতের পরিবারে জন্ম হলেও পথটা সহজ ছিল না। মাত্র ছোট বয়সেই বাবাকে হারানোর পর পরিবারের দায়িত্বের ভার এসে পড়েছিল মঙ্গেশকর পরিবারের উপর।
3
11
আশা ভোঁসলে গান শুরু করেছিলেন অল্প বয়সেই। পাশে ছিলেন দিদি লতা মঙ্গেশকর—যিনি ইতিমধ্যেই নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেছেন।একই পরিবারের দুই বোন, দু’জনেই অসাধারণ প্রতিভাবান। স্বাভাবিকভাবেই তুলনা এসেছে বারবার।কিন্তু আশার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সাফল্য ছিল, তিনি কখনও লতার মতো হওয়ার চেষ্টা করেননি।
4
11
তিনি নিজের কণ্ঠ, নিজের স্টাইল, নিজের গানের ভাষা খুঁজে নিয়েছিলেন। একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হল নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করা। আশা ভোঁসলের ক্ষেত্রেও সেই পথ সহজ ছিল না।
5
11
তাঁর কণ্ঠকে একসময় মূলত প্রাণবন্ত, চটুল বা ক্যাবারে গানের জন্য ভাবা হত৷ কিন্তু তিনি সেই পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে আটকে রাখেননি। যে গায়িকা একদিকে ‘দম মারো দম’-এর মতো গান গাইতে পারেন, তিনিই আবার অন্যদিকে ‘উমরাও জান’-এর মতো ছবিতে গজলের গভীর আবেগকে কণ্ঠে তুলে ধরতে পারেন।
6
11
আশা ভোঁসলে যেন প্রতিটি নতুন গানকে নিজের জন্য একটি নতুন পরীক্ষা হিসেবে নিয়েছিলেন। শাস্ত্রীয় সংগীত, গজল, পপ, রোম্যান্টিক গান, ক্যাবারে, লোকগান, সব ধারাতেই সাবলীল। দেশের সীমানা পেরিয়ে তাঁর কণ্ঠ পৌঁছে গেল আন্তর্জাতিক সংগীতের দুনিয়ায়। ১৯৯৭ সালে আলি আকবর খানের সঙ্গে Legacy অ্যালবামের জন্য গ্র্যামি নমিনেশন পেয়েছিলেন পান আশা ভোঁসলে।
7
11
রেকর্ড অনুযায়ী, এই প্রথম ভারতীয় কোনও সঙ্গীতশিল্পী গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। এই যাত্রা শুধুমাত্র একটি পুরস্কারের মনোনয়ন পাওয়ার ঘটনা ছিল না।এটি ছিল ভারতীয় সংগীতের এক অসাধারণ কণ্ঠের বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যাওয়ার মুহূর্ত।
8
11
অনেক শিল্পী জীবনের একটা সময়ের পর নতুন কিছু করার ঝুঁকি নিতে চান না। কিন্তু আশা ভোঁসলে বারবার দেখিয়েছেন, বয়স কখনও সৃষ্টিশীলতার সীমা হতে পারে না।১৯৯৭-এর পরেও তাঁর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির যাত্রা থামেনি। ২০০৬ সালে ইউ হ্যাভ স্টোলেন মাই হার্ট (You've Stolen My Heart – Songs From R.D. Burman's Bollywood) অ্যালবামের জন্যও গ্র্যামি নমিনেশন পান৷
9
11
আশা ভোঁসলের সংগীতজীবনের কথা আর ডি বর্মনকে বাদ দিয়ে ভাবা যায় না। দু’জনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি ছিল গভীর সৃষ্টিশীল বোঝাপড়া। তাঁদের জুটি ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতকে দিয়েছে একের পর এক স্মরণীয় গান।
10
11
আশা ভোঁসলের কাছে গান ছিল শুধু রেকর্ডিং স্টুডিয়ো, মঞ্চ বা সিনেমার প্লেব্যাক নয়। সংগীত ছিল তাঁর জীবনযাপনের অংশ। তাই বয়স, সময় কিংবা পরিবর্তিত ইন্ডাস্ট্রি—কিছুই তাঁকে গান থেকে দূরে সরাতে পারেনি।
11
11
আশা ভোঁসলে এমন এক প্রতিভা যাঁর কাছে সময় প্রজন্ম বদল সবকিছু হার মেনে নিয়েছে৷ শ্বাশ্বত কেবল সুর আর সেই সুরের প্রতি একনিষ্ঠ এক শিল্পী৷