বর্তমান সময়ে দ্রুত গতিতে বদলাচ্ছে সকলের জীবন। বিশেষ করে ছোটদের। আগের মতো এখন যৌথ পরিবার দেখা যায় না বলেই চলে। হারিয়েছে মাঠে গিয়ে বা পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে খেলা, আড্ডা দেওয়ার রেওয়াজ। শিশুদের জীবন এখন অনেকটাই পড়াশোনা, স্কুল, হোমওয়ার্ক আর মা বাবাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। সঙ্গে রয়েছে আরও একটা জিনিস ফোন বা অন্যান্য গ্যাজেটস। ছবি- সংগৃহীত
2
8
এসবের মধ্যে শিশুদের উপর সব থেকে বেশি প্রভাব থাকে বাবা মায়েদের। তাই তাঁদের কোনও সামান্য আচরণও বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে শিশুদের উপর। হতে পারে অজান্তেই আপনার কোনও আচরণ আপনার ছোট্ট সোনার উপর চাপ তৈরি করছে, তার মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে। তাই জেনে নিন বাবা মায়েদের কোন কোন কাজ শিশুদের উপর প্রভাব ফেলছে। ছবি- এআই দ্বারা নির্মিত
3
8
মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী বাড়িতে যদি অশান্তির আবহ থাকে, বাবা মা বা বাড়ির অন্যান্যরা ঘনঘন ঝগড়া, ঝনেল করে, রেগে থাকে তাহলে তার প্রভাব ছোটদের উপর পড়ে। বিশেষ করে যদি বাবা মা ছোট ছোট বিষয়ে রেগে যান আর সন্তানদের বকা দেন তাহলে শিশুদের মনে ভয় তৈরি হয়ে যায়। ছবি- সংগৃহীত
4
8
ছোটবেলাতেই দ্রুত বিকাশ হয় ছোটদের বোধবুদ্ধি। ভাবনা, চিন্তাও বদলাতে থাকে দ্রুত। এই সময় যদি তাদের সময় দেওয়া না হয়, উল্টে বকাঝকা করা হয়, বা ন্যানির কাছে রেখে দেওয়া হয় সবসময়, বাবা মা সময়। না দেয় তাহলে একাকীত্বে ভুগতে শুরু করে ওরা। ছবি- সংগৃহীত
5
8
বাবা মায়ের বকার কারণে শিশুদের মনে যে ভয় তৈরি হয় সেটার কারণেই কমতে থাকে তাদের আত্মবিশ্বাস। তাই বকাঝকা না করে সন্তানকে যদি ভালবেসে তার ভুল বোঝান, ধীরে কত বলেন, সন্তানের কথা মন দিয়ে শোনেন তাহলে ওরা সুরক্ষিত বোধ করে। বোঝে ওদের কথা শোনার কেউ আছে। নিজের মনের কথা খুলে বলতে পারে। নইলে কথা চেপে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে। ছবি- এআই দ্বারা নির্মিত
6
8
তবে কেবল বাবা মায়ের আচরণ নয়। স্কুলের পরিবেশ কেমন সেটাও প্রভাব ফেলে শিশু মনে। যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি, খেলাধুলো, আঁকা বা অন্যান্য কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হয় সমানভাবে সেখানে ওদের বৃদ্ধি ভাল হয়। আর যেখানে কথায় কথায় অন্য বাচ্চার সঙ্গে তুলনা টানা হয় সেখানেই নড়বড়ে হয় আত্মবিশ্বাস, তৈরি হয় হিংসা। পড়ায় মন বসে না। ছবি- সংগৃহীত
7
8
স্কুলে খারাপ পরিবেশ থাকলে বা কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে শিশুরা যাতে বাড়ি ফিরে মা বাবাকে নির্ভয়ে সেই কথা বলতে পারে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের মনে ভয় থাকলে কিন্তু গোপন করে যাবে। ছবি- এআই দ্বারা নির্মিত
8
8
আজকালকার দুনিয়ায় ছোটদের মন ভুলিয়ে রাখতে বা তাদের বায়নার কাছে হার মেনে অনেকেই ফোন দিয়ে দেন। বা ল্যাপটপ বা টিভি চালিয়ে দেন। এতে স্ক্রিন টাইম বেড়ে যায়। বয়সের অনুপাতে যেমন উল্টোপাল্টা কিছু দেখতে পারে, তেমন চোখ, মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও খারাপ প্রভাব পড়ে। তাই চেষ্টা করুন পালা রে হলেও সন্তানকে সময় দেওয়ার। তার সঙ্গে গল্প করার, খেলার। বেড়াতে নিয়ে যান। সন্তানকে নিয়ে যদি না বেরোন তাহলে সে কিন্তু ঘরকুনো হয়ে যাবে। ছবি- এআই দ্বারা নির্মিত