বিদেশ ভ্রমণ, দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ কিংবা স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় এখন আন্তর্জাতিক নাগরিকদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—পাসপোর্টের শক্তি এবং নিজ দেশের সার্বিক শান্তি। আন্তর্জাতিক রেসিডেন্সি ও সিটিজেনশিপ ফার্ম ‘হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে একটি আকর্ষণীয় তথ্য: বিশ্বের যেসব দেশের পাসপোর্ট সবচেয়ে শক্তিশালী, তাদের বেশিরভাগই বিশ্ব শান্তি সূচকেও শীর্ষ কাতারে রয়েছে। সংস্থাটি তাদের ২০২৬ সালের পাসপোর্ট ইনডেক্স এবং ‘ইনস্টিটিউট অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস’-এর ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল পিস ইনডেক্স’ (জিপিআই) তুলনা করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
2
7
শান্তি ও শক্তিশালী পাসপোর্ট—এই দুই সূচকের সমন্বয়ে ২০২৬ সালের শীর্ষ দেশের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তকমা পাওয়া সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা কোনও আগাম ভিসা ছাড়াই ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। একই সঙ্গে বিশ্ব শান্তি সূচকে রাষ্ট্রটির অবস্থান অষ্টম। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান। গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে বিশ্ব শান্তি সূচকে ১০ম স্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পাসপোর্ট বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিশালী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা ১৮৮টি দেশে ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেয়।
3
7
তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতার জন্য পরিচিত এই দেশটি শান্তি সূচকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও তাদের পাসপোর্ট শক্তিতে রয়েছে ৫ম স্থানে (১৮৫টি দেশে ভিসা-মুক্ত প্রবেশ)।
4
7
উত্তর আমেরিকা থেকে কেবল কানাডাই দুই সূচকেই শীর্ষ তালিকায় সম্মানজনক জায়গা করে নিতে পেরেছে। জিপিআই সূচকে ১৪তম এবং পাসপোর্ট শক্তিতে ৭ম স্থানে রয়েছে দেশটি (১৮৩টি দেশে ভিসা-মুক্ত সুবিধা)। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী চিত্র। প্রতিবেদনে তাদের ‘পরিসংখ্যানগত ব্যতিক্রম’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সূচকে ১৩৪তম এবং ইসরায়েল বিশ্বের অন্যতম অশান্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও দুটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি এখনো অত্যন্ত বেশি।
5
7
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের তথ্যানুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত দেখা গেছে। তবে আশার কথা হল, মানুষের বিশ্বজুড়ে যাতায়াতের ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ২০০৬ সালে যেখানে বিশ্বব্যাপী একটি পাসপোর্টে গড়ে ৫৮টি দেশে ভিসা ছাড়া যাওয়া যেত, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮টিতে।
6
7
সামগ্রিক বিচারে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোই সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করেছে। জিপিআই অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ আইসল্যান্ড হলেও পাসপোর্ট শক্তিতে ১০ম স্থানে থাকায় দেশটি শীর্ষ তালিকায় অল্পের জন্য স্থান পায়নি।
7
7
দুই সূচকের সমন্বয় অনুযায়ী ২০২৬ সালের সেরা অবস্থান ধরে রাখা প্রধান দেশগুলো হল—সিঙ্গাপুর, জাপান, সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড (পাসপোর্ট: ৪র্থ, জিপিআই: ৫ম), অষ্ট্রিয়া (পাসপোর্ট: ৪র্থ, জিপিআই: ৬ষ্ঠ), পর্তুগাল (পাসপোর্ট: ৫ম, জিপিআই: ৭ম), ফিনল্যান্ড (পাসপোর্ট: ৪র্থ, জিপিআই: ৯মে), ডেনমার্ক (পাসপোর্ট: ৪র্থ, জিপিআই: ১১তম), নিউজিল্যান্ড (পাসপোর্ট: ৭ম, জিপিআই: ২য়), কানাডা (পাসপোর্ট: ৭ম, জিপিআই: ১৪তম), চেকিয়া (পাসপোর্ট: ৭ম, জিপিআই: ১৩তম) এবং মালয়েশিয়া (পাসপোর্ট: ৭ম, জিপিআই: ১২তম)।