আমরা যদি এই আকালেও স্বপ্ন দেখি...
অন্য বাচ্চাদের মতো শৈশবের দিনগুলোতে ছিল না আরাম, জন্ম থেকে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই৷
2
9
মেয়েটির নাম আর অন্নপুরানি৷ দু'বেলা দু'মুঠো খাবার জোটে না যে বাড়িতে সেখানে পড়াশোনা বিলাসিতাই বটে৷ ছোট বয়সেই সংসারের বোঝা কাঁধে তুলে নিতে হয় মেয়েটিকে৷
3
9
সকাল থেকে উঠে বাড়ি বাড়ি ঝাঁট দেওয়া বাসন মাজার কাজ সেরেই এক দৌড়ে স্কুল চলে যেত মেয়েটি৷ সন্ধ্যেবেলা ক্লান্ত শরীর একটু বিশ্রাম চাইত৷ ক্লান্তি সঙ্গে নিয়েই পড়তে বসত মেয়েটি৷
4
9
তামিলনাড়ু রাজ্য বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণিতে ৫০০-র মধ্যে ৪২৮ নম্বর পেয়ে সাফল্যের শীর্ষে চেন্নাই বালিকা উচ্চবিদ্যালিয়ের ছাত্রী আর অন্নপুরাণি।
5
9
চেন্নাইয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইথিরাজ কলেজ ফর উইমেন-এ কম্পিউটার সায়েন্স এবং এআই নিয়ে পড়াশোনার জন্য বৃত্তিসহ ভর্তি হয়েছেন এই কৃতী ছাত্রী।
6
9
অভাবের সঙ্গে ছিল অন্য আর এক লড়াই। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হত৷ কিন্তু সমস্ত লড়াইয়ের জবাব মেয়েটি দিয়েছে পরীক্ষার খাতায়৷ ৫০০-র মধ্যে ৪২৮ মানে ৮৫.৬ শতাংশ নবর মেয়েটির কাছে যুদ্ধজয়ের স্মারক৷
7
9
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ছাত্রীটি জানিয়েছেন, “আমি জানতাম— পড়াশোনাই আমার একমাত্র পথ। যত কঠিনই হোক, ছাড়ব না। মা-বাবা সব সময় পাশে থেকেছেন। বিশেষ করে আমার মা— তিনিই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
8
9
পুরস্কার স্বরূপ মেয়েটি পেয়েছেন, NIRF র্যাঙ্কিংয়ে দেশের শীর্ষ ১০০ কলেজের অন্যতম ইথিরাজ কলেজ ফর উইমেন থেকে সম্পূর্ণ বৃত্তি৷ টিউশন ফি থেকে শুরু করে বই, পরীক্ষার খরচ পর্যন্ত সব।
9
9
এই গল্প শুধু এক ছাত্রীর নয়— ভারতের লক্ষ লক্ষ মেয়ের, যাঁরা প্রতিদিন দারিদ্র্য, পরিবারের অনিচ্ছা, সামাজিক চাপ পেরিয়ে শিক্ষার পথে এগিয়ে চলেছেন।