বুধবার সপ্তাহের মাঝামাঝি বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। সকাল থেকেই বাজারে শুরু হয় ব্যাপক বিক্রির চাপ।
2
14
সেনসেক্স প্রায় ৮০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ নেমে আসে ২২,৬০০ পয়েন্টের নিচে।
3
14
তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি শেয়ারের দরপতন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি—এই তিনটি বিষয় বাজারের উপর চাপ বাড়িয়েছে।
4
14
বুধবার সকালেই বিএসই সেনসেক্স ৭৮০.২৭ পয়েন্ট বা ১.০৬ শতাংশ কমে ৭২,৮১৮.৪০ পয়েন্টে নেমে আসে। অন্যদিকে, এনএসই নিফটি ৫০ কমে দাঁড়ায় ২২,৫৫৬.৮০ পয়েন্টে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে বিক্রির চাপ দেখা গেলেও ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সংস্থার শেয়ারে তুলনামূলক শক্তি লক্ষ্য করা যায়।
5
14
বাজারের পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি সেক্টর। বুধবার সকালে নিফটি আইটি সূচক ৩.২১ শতাংশ পড়ে যায়।
6
14
ইনফোসিসের শেয়ারের দাম কমে ৪.৬৬ শতাংশ। এমফ্যাসিসের শেয়ার পড়ে ৪.৮৬ শতাংশ। টিসিএস ৩.০২ শতাংশ, টেক মাহিন্দ্রা ৩.১৩ শতাংশ এবং এইচসিএল টেক ২.৬৩ শতাংশ নিম্নমুখী হয়।
7
14
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। মূল্যবৃদ্ধির চাপ বজায় থাকলে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
8
14
এর ফলে মার্কিন সংস্থাগুলি প্রযুক্তি খাতে খরচ কমাতে পারে বা নতুন প্রকল্পের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে। মার্কিন বাজারের উপর নির্ভরশীল ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির ভবিষ্যৎ আয় এবং ব্যবসায়িক বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে তাই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
9
14
বাজারে চাপের দ্বিতীয় বড় কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি। সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে হামলার খবর সামনে আসার পর জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা বেড়েছে।
10
14
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫.৫৪ ডলারে পৌঁছয়। আমেরিকার ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়ে ১০১.৩৭ ডলারে দাঁড়ায়।
11
14
ভারত অপরিশোধিত তেলের আমদানির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে দেশের আমদানি খরচ বাড়বে। পাশাপাশি টাকার উপর চাপ, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা এবং বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন ও পরিবহণ খরচ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
12
14
বাজারের পতনের তৃতীয় কারণ বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লাগাতার বিক্রি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। মধ্য এশিয়াতে সংঘাত আরও বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে।
13
14
এদিকে, নিফটি এফএমসিজি সূচক ১.৯২ শতাংশ এবং তেল ও গ্যাস সূচক ১.৯৯ শতাংশ কমে যায়। আর্থিক পরিষেবা, বেসরকারি ব্যাঙ্ক, ধাতু ও রিয়েলটি সেক্টরেও পতন দেখা যায়।
14
14
সব মিলিয়ে, মার্কিন সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা আপাতত শেয়ার বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।