হঠাৎ সামনে ফণা তুলে দাঁড়িয়েছে গোখরো। এমন পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আতঙ্কে চিৎকার করা, দৌড়ে পালানো কিংবা সাপটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে বিপদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। এই পরিস্থিতি সবচেয়ে জরুরি, শান্ত থাকা, সাপের কাছে না যাওয়া এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা।
2
11
গোখরো দেখেই দৌড়তে শুরু করবেন না। আচমকা নড়াচড়া সাপটিকে আরও সতর্ক করে দিতে পারে। যেখানে রয়েছেন, সেখান থেকে পরিস্থিতি বুঝে ধীরে ধীরে পিছিয়ে আসুন। সাপের দিকে এগিয়ে যাওয়া বা তাকে ছোঁয়ার চেষ্টা একেবারেই করবেন না।
3
11
গোখরো ফণা তুললে তা সতর্কতামূলক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে সাপটি আক্রমণ করবে। তবে একে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। সাপের আচরণ পরীক্ষা করতে কাছে যাবেন না।
4
11
সাপকে ঘিরে ধরলে বা কোণঠাসা করলে আত্মরক্ষার জন্য সেটি ছোবল মারতে পারে। তাই তার পথ আটকাবেন না। সম্ভব হলে সাপকে নিজের মতো সরে যাওয়ার সুযোগ দিন। তাকে ধরতে বা লাঠি দিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করবেন না।
5
11
গোখরোর নাগালের বাইরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ। ছোবলের দূরত্ব নির্ভর করে সাপের আকার ও পরিস্থিতির উপর। তাই নির্দিষ্ট কয়েক ফুট দূরত্ব সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়।
6
11
বাড়ির ভিতরে সাপ দেখতে পেলে প্রথমেই শিশু ও পোষ্যদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিন। সাপটিকে ধরার চেষ্টা না করে ঘর থেকে দূরে থাকুন। নিরাপদ দূরত্ব থেকে সাপটির উপর নজর রাখুন। প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী বা সংশ্লিষ্ট বন দপ্তরকে খবর দিন।
7
11
অনেকেই ঝাড়ু, লাঠি বা অন্য কোনও সরঞ্জাম দিয়ে সাপ তাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত সরঞ্জাম ছাড়া এই কাজ বিপজ্জনক। সাপটিকে মারতে গেলেও ছোবল খাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
8
11
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। ঝোপঝাড়, আবর্জনা এবং কাঠ বা পুরনো জিনিসের স্তূপ সরিয়ে ফেলুন। দেওয়াল, দরজা ও জানালার ফাঁক বন্ধ করুন। ইঁদুরের উপদ্রব কমানোর চেষ্টা করুন।
9
11
অন্ধকারে হাঁটার সময় টর্চ ব্যবহার করুন এবং পা ঢাকা জুতো পরুন। ঘাস, ঝোপ কিংবা অন্ধকার কোণে হাত দেবেন না। জুতো, পোশাক বা ব্যবহারের আগে মেঝেতে রাখা জিনিসপত্রও পরীক্ষা করে নিন।
10
11
গোখরোর কামড়ে বিষ শরীরে প্রবেশ করলে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কামড়ানোর পর ব্যথা বা অন্য উপসর্গের অপেক্ষা করবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখুন, যতটা সম্ভব নড়াচড়া বন্ধ রাখুন এবং দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান।
11
11
ক্ষতস্থান কেটে বিষ বের করার চেষ্টা করবেন না। মুখ দিয়ে বিষ চুষে নেওয়া, বরফ লাগানো, শক্ত করে বাঁধন দেওয়া কিংবা ঝাড়ফুঁক ও ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর করা বিপজ্জনক। আক্রান্ত অঙ্গটি স্থির রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।