সাপকে দেখলেই প্রথম যে বৈশিষ্ট্যগুলির কথা মনে আসে, তার মধ্যে অন্যতম হল শরীর কুণ্ডলী পাকানোর ক্ষমতা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সাপের এই আচরণের সূচনা হয় জন্মের অনেক আগেই।
2
11
এমনকি নড়াচড়া করার ক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি হওয়ার আগেই সাপের ভ্রূণ প্রায় একই দিকে শরীর কুণ্ডলী পাকিয়ে অবস্থান করে। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চমকপ্রদ তথ্য, যা সাপের শারীরিক বিকাশ এবং আচরণের বিবর্তন সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
3
11
সাপের শরীর লম্বা এবং অঙ্গহীন হওয়ায় তাদের চলাফেরার ধরন অন্যান্য সরীসৃপের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। শরীরের অসংখ্য কশেরুকা এবং পেশির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে তারা সামনে এগিয়ে যায়, বাঁক নেয় এবং প্রয়োজনে শরীরকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ফেলে।
4
11
এতদিন বিজ্ঞানীরা জানতেন যে জন্মের পর সাপের নড়াচড়ার মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু স্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়। কিন্তু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের শরীরের বিন্যাসের প্রবণতা তৈরি হতে পারে ভ্রূণ অবস্থাতেই।
5
11
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ডিমের ভিতরে থাকা সাপের ভ্রূণ নড়াচড়া করার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা অর্জনের আগেই একটি নির্দিষ্ট দিকে শরীর বাঁকিয়ে বা কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ পরিবেশ দেখে শেখা বা জন্মের পর অভিজ্ঞতা অর্জনের আগেই শরীরের এই বিশেষ ভঙ্গির একটি প্রবণতা তৈরি হয়ে যায়।
6
11
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল—কেন প্রায় একই দিকেই কুণ্ডলী পাকায় সাপের ভ্রূণ? এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে সাপের শরীরের গঠন এবং ভ্রূণ বিকাশের সময় মেরুদণ্ড, পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রের সমন্বিত বিকাশ।
7
11
শরীরের দুই পাশ দেখতে একই রকম হলেও জীবদেহে সম্পূর্ণ নিখুঁত সমতা সবসময় থাকে না। ভ্রূণের বিকাশের সময় সামান্য জৈবিক পার্থক্যও শরীরের বাঁক বা অবস্থানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
8
11
আরেকটি সম্ভাবনা হল, এই অবস্থান সাপের ভ্রূণের জন্য ডিমের ভিতরে একটি কার্যকর শারীরিক বিন্যাস তৈরি করে। সরু এবং সীমিত জায়গার মধ্যে লম্বা শরীরকে কুণ্ডলী পাকিয়ে রাখলে ভ্রূণের বৃদ্ধি এবং ডিমের ভিতরে জায়গার ব্যবহার সহজ হতে পারে।
9
11
তবে এই আচরণকে শুধুমাত্র একটি শারীরিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন না বিজ্ঞানীরা। এর সঙ্গে সাপের স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ এবং ভবিষ্যতের মোটর আচরণের সম্পর্কও থাকতে পারে। অর্থাৎ জন্মের পর যে ধরনের নড়াচড়া, বাঁক নেওয়া বা শরীর কুণ্ডলী পাকানোর ক্ষমতা দেখা যায়, তার কিছু ভিত্তি হয়তো জন্মের আগেই তৈরি হয়ে যায়।
10
11
এই আবিষ্কার শুধু সাপের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রাণীদের আচরণ কতটা জিনগতভাবে নির্ধারিত এবং কতটা পরিবেশ ও অভিজ্ঞতা থেকে শেখা—এই পুরনো বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও এমন গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
11
11
তবে সাপের ভ্রূণ কেন নির্দিষ্ট একটি দিকেই বেশি কুণ্ডলী পাকায়, তার সম্পূর্ণ কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ভবিষ্যতের গবেষণায় বিভিন্ন প্রজাতির সাপের ভ্রূণ পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা হয়তো জানতে পারবেন, এই অদ্ভুত আচরণ সাপের বিবর্তনের সঙ্গে কতটা গভীরভাবে যুক্ত।