জ্যাকসন হোলের বৈঠকে মার্কিন ফেডের কড়া অবস্থানের ইঙ্গিতের পরই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সুদের হার নিয়ে ফেডের সম্ভাব্য অবস্থান এবং মধ্য এশিয়াতে বাড়তে থাকা উত্তেজনা।
2
13
এই দুইয়ের প্রভাবেই মূল্যবান ধাতুর বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে এখন বড় প্রশ্ন, এই ধাক্কা সামলে ২০২৬ সালের শেষে সোনার দাম কি ১০ গ্রামে ১.৭০ লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে?
3
13
সাম্প্রতিক দর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪,৪২৮.৫৪ মার্কিন ডলার হয়েছে। আগের সেশনে তা ১৯ অগস্টের পর সর্বনিম্ন স্তরেও নেমেছিল।
4
13
অন্যদিকে মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০.১ শতাংশ কমে ৪,৪৭৭.২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পট সিলভারের দামও ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৬৬.৪২ মার্কিন ডলার হয়েছে।
5
13
দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। এমসিএক্সে গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৩,৯৯৭ হয়েছে। রুপোর দাম প্রথমে ০.১ শতাংশ কমে প্রতি কেজিতে ২,৩৩,৫০১-এ নেমেছিল। পরে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ২,৩৫,৮০০-তে পৌঁছয়।
6
13
জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে মার্কিন ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্য বাজারের প্রত্যাশায় বড় পরিবর্তন এনেছে। মুদ্রাস্ফীতি যদি ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যের দিকে না এগোয়, তাহলে সুদের হার নিয়ে আরও কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে—তাঁর বক্তব্যে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে।
7
13
ফেডের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে সাধারণত মার্কিন বন্ডের ইয়িল্ড বাড়ে এবং সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। সেই কারণেই ওয়ারশের মন্তব্যের পর শুক্রবার সোনার দাম প্রায় ৩ শতাংশ পড়ে যায়।
8
13
এর পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার উত্তেজনা এবং স্ট্রেইট অব হরমুজকে ঘিরে অনিশ্চয়তাও বাজারকে প্রভাবিত করছে। তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে, যা আবার ফেডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
9
13
বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই মনার্ক পিএমএস সোনা ও রুপোর জন্য ২০২৬ সালের শেষের সম্ভাব্য তিনটি পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। তাদের বেস কেসে ৫৫ শতাংশ সম্ভাবনা দেওয়া হয়েছে।
10
13
এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের শেষে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩১,১৭০ থেকে ১,৪৩,৩৭২-এর মধ্যে থাকতে পারে। রুপোর দাম হতে পারে প্রতি কেজিতে ২,১৩,৫৪৩ থেকে ২,৫৯,৩০২।
11
13
এই পূর্বাভাসের পিছনে ধরা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে, জ্বালানির দাম স্বাভাবিক হবে, রিয়েল ইয়িল্ড স্থিতিশীল থাকবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি প্রতি ত্রৈমাসিকে প্রায় ২৫০ টন করে সোনা কিনবে।
12
13
মনার্ক পিএমএস-এর বিয়ার কেসে ২০ শতাংশ সম্ভাবনা ধরা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,০৩,৭৩৭ থেকে ১,১৮,৯৯২ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। রুপোর দামও ১,৩৭,২৮২ থেকে ১,৬৭,৭৯০ প্রতি কেজির মধ্যে থাকতে পারে।
13
13
অর্থাৎ ২০২৬ সালে সোনার ১.৭০ লক্ষের লক্ষ্যমাত্রা এখনই নিশ্চিত নয়। ফেডের সুদের হার, মুদ্রাস্ফীতি, তেলের দাম, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সোনা কেনা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিই আগামী দিনে সোনা-রুপোর দামের গতিপথ ঠিক করবে।