দেশের শেয়ার বাজারে ফের বড়সড় ধাক্কা। শুক্রবার দিনের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তীব্র বিক্রির চাপে পড়ে সেনসেক্স এবং নিফটি দু’টিই বড় পতনের মুখে পড়ে।
2
11
দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৭০০ পয়েন্ট নেমে যায় সেনসেক্স, অন্যদিকে নিফটি ফিফটি নেমে আসে ২৩,৭৫০-এর কাছাকাছি। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক উদ্বেগ মিলিয়েই এই পতনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
3
11
বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে আমেরিকা ও ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্য এশিয়াতে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও এখনও কোনও স্থায়ী শান্তিচুক্তি বা কূটনৈতিক সমাধান সামনে আসেনি।
4
11
ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ওঠানামা করছে, যার প্রভাব ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির উপর সরাসরি পড়ছে।
5
11
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে অস্থিরতা বাড়লে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ বৃদ্ধি পায়, যা মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। এই আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমেছে।
6
11
এছাড়াও বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা এফআইআইদের ধারাবাহিক বিক্রিও বাজার পতনের অন্যতম কারণ। গত কয়েকটি সেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নিয়েছেন।
7
11
মূলত আমেরিকার সুদের হার, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝোঁক বাড়ার কারণেই এই বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
8
11
বাজারে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাঙ্কিং এবং ধাতু খাতের শেয়ারগুলিতে বেশি চাপ দেখা যায়। বেশ কিছু বড় কোম্পানির শেয়ারে মুনাফা বুকিংও হয়েছে। দিনের শুরুতে কেনাকাটার প্রবণতা থাকলেও পরে বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নেওয়ায় সূচক দ্রুত নীচের দিকে নেমে আসে।
9
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, তেলের দাম, আমেরিকার অর্থনৈতিক নীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ— সবকিছুই ভারতীয় বাজারের উপর প্রভাব ফেলছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা আরও বাড়তে পারে।
10
11
তবে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের অর্থনীতির ভিত এখনও শক্তিশালী বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কর্পোরেট আয়, কাঠামো বিনিয়োগ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাজারকে ভবিষ্যতে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আপাতত আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার ছায়ায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানই বাজারে বেশি প্রভাব ফেলছে।
11
11
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই ধরনের অস্থির বাজারে আতঙ্কিত হয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কৌশল বজায় রাখা উচিত। কারণ বাজারে সাময়িক পতন হলেও দীর্ঘ সময়ে ভালো মানের শেয়ারই সাধারণত লাভ এনে দেয়।