২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের বাজারে প্লাস্টিকের ১০ এবং ২০ টাকার নোট চালু করার কথা চিন্তাভাবনা করছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এই নোট বাজারে জনপ্রিয়তা লাভ করলে বড় নোট বাজারে ছাড়ার কথা ভাবা হবে।
2
12
এএনআই এবং দৈনিক ভাস্করের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নোট তৈরির কাঁচামাল সরবরাহের জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড (বিআরবিএনএমপিএল) নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত অস্বচ্ছ পলিমার সাবস্ট্রেট শিট সরবরাহ করার জন্য আগ্রহপত্র জারি করেছে।
3
12
আবেদনের প্রধান শর্ত হচ্ছে, টেন্ডারে অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের কাজ যেন চীন বা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়। এই দুই দেশ থেকেই কাঁচামাল সংগ্রহ করা যাবে না এবং প্রকল্পের জন্য এমন কোনো কর্মীকে নিয়োগ করা যাবে না যিনি পূর্বে চীন বা পাকিস্তানে কাজ করেছেন।
4
12
১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম চালু হওয়া পলিমার নোট এখন ৫০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত হয়। প্লাস্টিকের নোট চালু হলে ভারত সেই ৬০টিরও বেশি দেশের তালিকায় চলে আসবে যারা পলিমার নোট ব্যবহার করে।
5
12
সাধারণভাবে ‘প্লাস্টিক নোট’ বলা হলেও, পলিমার নোট সাধারণ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয় না। এগুলি একটি বিশেষভাবে তৈরি পলিমার সাবস্ট্রেট ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়। এই নোটগুলি প্রচলিত কাগজের নোটের চেয়ে বেশি শক্তিশালী, টেকসই এবং পরিবেশগত ক্ষতি প্রতিরোধী।
6
12
ভারতের প্রচলিত নোটগুলি প্রধানত তুলোর আঁশ থেকে তৈরি হলেও, পলিমার নোটগুলি সহজে জল, ঘাম বা ময়লা শোষণ করে না। আরবিআই কেন প্লাস্টিকের নোট চালু করার পরিকল্পনা করছে?
7
12
এই পরিবর্তন বিবেচনা করার নেপথ্যে আরবিআই-এর বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এক, পলিমার নোট কাগজের নোটের চেয়ে আড়াই থেকে চার গুণ বেশি দিন টিকতে পারে, বিশেষ করে কম মূল্যমানের নোটগুলি যা ঘন ঘন হাতবদল হয়।
8
12
দুই, প্রাথমিকভাবে ছাপাতে খরচ বেশি হয়, কিন্তু এর দীর্ঘ জীবনকালের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কম নোট প্রতিস্থাপন করতে হয়। তিন, পলিমার নোটে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে যা নকল করা কঠিন।
9
12
চার, এগুলি কাগজের নোটের চেয়ে আর্দ্রতা, স্যাঁতসেঁতে ভাব, ভাঁজ এবং দৈনন্দিন ব্যবহার অনেক ভালভাবে সহ্য করে। যেহেতু এগুলি কম আর্দ্রতা এবং ময়লা শোষণ করে, তাই পলিমার নোট সাধারণত পরিচ্ছন্ন থাকে।
10
12
পলিমার নোটের অন্যতম প্রধান সুবিধা হল এর উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পলিমার মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলি প্রায়শই এতে স্বচ্ছ, রঙ পরিবর্তনকারী উপাদান, সূক্ষ্ম মাইক্রোপ্রিন্টিং এবং জটিল হলোগ্রাফিক নকশার মতো বৈশিষ্ট্য যুক্ত করে। যার ফলে এগুলি কাগজের নোটের তুলনায় জাল করাকে অনেক বেশি কঠিন।
11
12
পলিমার নোটের বেশ কিছু সুবিধা থাকলেও, এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রাথমিক মুদ্রণ খরচ বেশি। প্রচলিত কাগজের নোটের তুলনায় পিচ্ছিল মনে হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে খুব উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকলে বিকৃত হতে পারে। পুনর্য্পবহারের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন।
12
12
পলিমার নোট ইতিমধ্যে ৬০টিরও বেশি দেশে প্রচলিত আছে, যার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা, নিউ জিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, রোমানিয়া, মেক্সিকো এবং নাইজেরিয়া।