আলু ছাড়া কলকাতার বিরিয়ানি ভাবাই যায় না, জানেন কি এই আলু দেওয়ার কারণ কী?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৪ মে ২০২৬ ১৭ : ৫৪
শেয়ার করুন
1
10
ঊনবিংশ শতকে আওধের শেষ নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ (Wajid Ali Shah) ব্রিটিশদের হাতে সিংহাসন হারিয়ে কলকাতার মেটিয়াবুরুজে এসে বসবাস শুরু করেন।
2
10
ওয়াজিদ আলি শাহ কলকাতায় চলে এলেও ভুলতে পারেননি লখনউকে৷ তাই কলকাতায় ছোট্ট লখনউ তৈরি করতে চেয়েছিলেন৷ সঙ্গে এসেছিলেন তাঁর রাঁধুনি, শিল্পী, সংগীতজ্ঞ এবং সংস্কৃতির নানা ধারক-বাহক।
3
10
শোনা যায়, নির্বাসনের সময় নবাবের আর্থিক অবস্থা আগের মতো ছিল না। তাই বিরিয়ানিতে মাংসের পরিমাণ কমিয়ে তার জায়গায় যোগ করা হয় আলু। ধীরে ধীরে সেই আলুই হয়ে ওঠে কলকাতার বিরিয়ানির পরিচয়।
4
10
ভাত, মাংস, আলুর স্তরে স্তরে বিন্যাস সামান্য মশলা, অল্প কেশর আর কম আঁচে অনেকক্ষণ ধরে রান্না করা, এই কলকাতার বিরিয়ানিকে স্বাদে গন্ধে করে তুলেছে অতুলনীয়।
5
10
ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, শুধুই অর্থাভাব নয়, তখন আলু ছিল এক ধরনের বিলাসবহুল বিদেশি সবজি, যা পর্তুগিজদের হাত ধরে ভারতে আসে।
6
10
নবাবের রাঁধুনিরা পরীক্ষামূলকভাবে বিরিয়ানিতে আলু ব্যবহার করেন এবং সেই স্বাদ এতটাই জনপ্রিয় হয় যে পরে তা স্থায়ী হয়ে যায়।
7
10
কলকাতার বিরিয়ানির বিশেষত্ব শুধু আলুতেই নয়। হায়দরাবাদি বিরিয়ানির মতো অতিরিক্ত ঝাল বা মশলাদার নয় এটি। বরং হালকা সুগন্ধ, মৃদু মশলা এবং মাংস-চাল-আলুর নিখুঁত ভারসাম্যই একে আলাদা করে তুলেছে।
8
10
অনেকেই বলেন, কলকাতার বিরিয়ানিতে “কম মশলায় বেশি স্বাদ”-এর জাদু লুকিয়ে আছে।
আজ কলকাতার বিরিয়ানি শুধু খাবার নয়, শহরের সংস্কৃতির অংশ।
9
10
মেটিয়াবুরুজ থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি— সর্বত্র এই বিরিয়ানি এক আবেগের নাম। এক টুকরো আলু যেন শুধু স্বাদ বাড়ায় না, মনে করিয়ে দেয় ইতিহাস, অভিবাসন আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনের গল্পও।
10
10
অনেকের কাছে বিরিয়ানিতে আলু মানে শুধুই সামান্য এক উপকরণ নয়, সেটাই কলকাতার বিরিয়ানির পরিচয় এবং বিশেষত্ব৷