দেশের মুদ্রাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। কটন-পেপার বা সুতির কাগজভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী ব্যাঙ্কনোটের স্থায়িত্ব বাড়াতে প্লাস্টিক বা পলিমার নোটের ট্রায়াল ড্রাইভ বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
2
12
প্রথম ধাপে ১০ টাকা ও ২০ টাকার মূল্যমানের ১০০ কোটি করে মোট ২০০ কোটি পিস পলিমার নোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তবে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল থাকলেও, ব্যাঙ্কগুলির সামনে দাঁড়িয়েছে এক বিরাট আর্থিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ—দেশের লক্ষাধিক এটিএমের ক্যাসেট এবং ক্যাশ মেশিনের রিক্যালিব্রেশন বা নতুন করে সাজানোর প্রাথমিক খরচ।
3
12
ভারতে কম মূল্যমানের নোটগুলি (যেমন ১০ ও ২০ টাকা) হাতবদলের উচ্চ হারের কারণে খুব দ্রুত ছিঁড়ে বা ময়লা হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে আরবিআই-কে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নতুন নোট ছাপাতে ও নষ্ট হওয়া নোট ধ্বংস করতে হয়।
4
12
দীর্ঘস্থায়িত্ব: প্রচলিত কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট প্রায় ২.৫ থেকে ৪ গুণ বেশি সময় টিকে থাকে।
5
12
স্থায়িত্ব: জল, ধুলোবালি ও ভাঁজের ফলে পলিপ্রোপিলিন উপাদানে তৈরি প্লাস্টিক নোট সহজে নষ্ট হয় না।
6
12
জালিয়াতি প্রতিরোধ: এতে বিশেষ ধরনের ওয়াটারমার্ক, ট্রান্সপারেন্ট উইন্ডো বা স্বচ্ছ উইন্ডো ব্যবহার করা সম্ভব, যা জাল নোট তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।
7
12
আরবিআই দীর্ঘমেয়াদে অর্থ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নিলেও, বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির জন্য এটি একটি বড় প্রাথমিক ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ভারতে প্রায় আড়াই লক্ষেরও বেশি এটিএম রয়েছে, যেগুলির মেকানিক্যাল রোলার ও ক্যাসেট প্রচলিত তুলো-কাগজের নোটের বেধ এবং টেক্সচারের ওপর ভিত্তি করে নকশা করা।
8
12
ক্যাসেট বদল ও হার্ডওয়্যার আপডেট: পলিমার নোটের আকার, বেধ এবং পিচ্ছিল ভাব কাগজের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এর ফলে ব্যাঙ্কনোট ধারণকারী এটিএমের অভ্যন্তরীণ ক্যাসেটগুলি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে বা নতুন উপযোগী ক্যাসেট বসাতে হবে।
9
12
আর্দ্রতা ও স্ট্যাটিক চার্জের চ্যালেঞ্জ: পলিমার নোট খুব মসৃণ হওয়ায় ভারতের মতো আর্দ্র জলবায়ুতে সেন্সর ও রোলারের মধ্যে স্থির তড়িৎ তৈরি করে। ফলে এটিএমের ভেতর একাধিক নোট একসঙ্গে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি এড়াতে সফটওয়্যার ও সেন্সর আপডেট জরুরি।
10
12
বিপুল মূলধনী ব্যয়: সারা দেশের এটিএম নেটওয়ার্ককে পলিমার নোটের উপযোগী করে তুলতে ব্যাঙ্কগুলির কোটি কোটি টাকার ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার বা মূলধনী ব্যয় হতে চলেছে।
11
12
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো প্রায় ৬০টি দেশ ইতিমধ্যেই সফলভাবে পলিমার নোট ব্যবহার করছে। ভারতেও পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নোট ছাপানোর বিপুল ব্যয় কমে আসবে।
12
12
তবে পাইলট প্রজেক্টের শুরুতেই এটিএম ও ক্যাশ ডিসপেন্সিং পরিকাঠামো পরিবর্তনের এই প্রাথমিক খরচের ধাক্কা কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই হিসাব-নিকাশ শুরু করে দিয়েছেন ব্যাঙ্কিং খাতের শীর্ষ কর্তারা।