অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রবীণ পেনশনভোগীদের মধ্যেও নতুন আশা জেগেছে। কর্মরত কর্মচারীদের বেতন সংশোধনের সাথে সাথেই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে।
2
9
এই বিষয়ে 'ভারত পেনশনার্স সমাজ' নতুন পে কমিশনের অধীনে সর্বনিম্ন ৪৫,০০০ টাকা পেনশন, প্রতি তিন মাস অন্তর মহার্ঘ ভাতা পর্যালোচনা এবং ডিআর ২৫ শতাংশ অতিক্রম করলেই তা মূল পেনশনের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
3
9
বর্তমানে সপ্তম পে কমিশনের আওতায় কেন্দ্রীয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সর্বনিম্ন মূল পেনশন হল মাসে ৯,০০০ টাকা। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গঠিত এই কমিশনকে সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৩ মে-র মধ্যে কমিশন রিপোর্ট পেশ করবে। সরকার প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
4
9
পেনশন ঠিক কতটা বৃদ্ধি পাবে তা নির্ভর করছে অষ্টম পে কমিশনের সুপারিশ করা এবং সরকার কর্তৃক গৃহীত 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর'-এর ওপর। স্টাফ সাইডের পক্ষ থেকে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
5
9
এই হিসাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৬৯,০০০ টাকা করার দাবি উঠেছে। একই গুণক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের ক্ষেত্রেও ব্যবহারের দাবি জানানো হয়েছে।
6
9
সহজ কথায়, কোনও পেনশনভোগীর বর্তমান মূল পেনশনকে ৩.৮৩ দিয়ে গুণ করলে আনুমানিক সংশোধিত পেনশন পাওয়া যাবে: বর্তমান মূল পেনশন × ৩.৮৩ = আনুমানিক সংশোধিত মূল পেনশন
7
9
মনে রাখা প্রয়োজন, উল্লিখিত হিসাবগুলো স্রেফ কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবির ভিত্তিতে তৈরি। সপ্তম পে কমিশনের সময় সরকার ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুমোদন করেছিল, যার ফলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৭,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮,০০০ টাকা হয়েছিল।
8
9
এছাড়া, মহার্ঘ ত্রাণ পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিকেও মাথায় রাখতে হবে। নতুন কাঠামো চালু হলে বর্তমান ডিআর সরাসরি এই আনুমানিক অঙ্কের সঙ্গে যোগ হবে না। আবার বাতাসে ভাসতে থাকা ৬৯,০০০ টাকার সর্বনিম্ন পেনশনের খবরটিও বিভ্রান্তিকর; এটি মূলত সর্বনিম্ন বেতনের দাবি, পেনশনের নয়।
9
9
কমিশনের সুপারিশ জমা পড়া এবং সরকার তা পর্যালোচনা করে ছাড়পত্র দেওয়ার পরেই পেনশনের সঠিক অঙ্ক স্পষ্ট হবে। ততদিন সকলকে অপেক্ষা করতেই হবে।