আধুনিক জীবনযাপনে অল্পবয়স থেকে হানা দিচ্ছে জটিল রোগ। যার জন্য শুধু ওষুধের ওপর ভরসা না রেখে খাওয়াদাওয়ায় ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদেরা। বিশেষ করে আমাদের হাতের কাছে এমন কিছু ভেষজ রয়েছে যা নিয়মিত খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। যার মধ্যে অন্যতম অশ্বগন্ধা। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই ভেষজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
2
8
ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ভেষজ অশ্বগন্ধা নিয়ে সম্প্রতি বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষণে উঠে এসেছে, কীভাবে এই ভেষজ শুধু ভারতের মধ্যেই নয়, বরং সারা বিশ্বে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে অশ্বাগন্ধার চাহিদা বেড়ে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
3
8
প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনা পরবর্তী সময়ে মানুষ মানসিক চাপ, অনিদ্রা, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো সমস্যায় ভুগছেন। এই সময় আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক ভেষজের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। অশ্বগন্ধা সেই তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। বর্তমানে বিদেশেও এই ভেষজ নিয়ে গবেষণা চলছে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে।
4
8
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, এটি শরীরের শক্তি বাড়াতে, ক্লান্তি দূর করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিক মাত্রায় অশ্বগন্ধা গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা কমে এবং শরীর-মন দু’টোই ভাল থাকে। এছাড়াও এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
5
8
মোদির বক্তব্যে মূলত এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের প্রাচীন জ্ঞান ও আয়ুর্বেদ আজ বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি পাচ্ছে। অশ্বগন্ধা তার একটি বড় উদাহরণ। দেশীয় ভেষজের সঠিক ব্যবহার বিশ্ব স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়াতে পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
6
8
অশ্বগন্ধা দৈনন্দিন খাবারের সঙ্গে খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়। রাতে ঘুমানোর আগে গরম দুধে অল্প পরিমাণ অশ্বগন্ধা গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে ঘুম ভাল হয় এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে।
7
8
সকালের স্মুদি, দই বা ওটসের সঙ্গেও অশ্বগন্ধা মিশিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া হার্বাল চা তৈরির সময় তুলসী পাতা ও আদার সঙ্গে সামান্য অশ্বগন্ধা গুঁড়ো যোগ করা যায়। এটি শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে। অনেকে ঘরে তৈরি লাড্ডু বা এনার্জি স্ন্যাকসের মধ্যেও অশ্বগন্ধা ব্যবহার করেন।
8
8
সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য সচেতন জীবনযাপনে এই প্রাচীন ভেষজ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।