বায়োপসির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি! মাত্র ১ ঘন্টায় ধরা পড়বে ওরাল ক্যানসার, ভারতীয় বিজ্ঞানীদের সাফল্যে নতুন দিশা
নিজস্ব সংবাদদাতা
১১ জুলাই ২০২৬ ০৯ : ৪৯
শেয়ার করুন
1
15
মুখে ব্রাশ বুলিয়েই ধরা পড়তে পারে ওরাল ক্যানসার! মাত্র ১ ঘণ্টায় মিলবে রিপোর্ট, আশার আলো দেখাল নতুন পরীক্ষা
2
15
ওরাল ক্যানসার বা মুখগহ্বরের ক্যানসার এমন একটি রোগ, যার প্রকোপ সারা বিশ্বে ধীরে ধীরে বাড়ছে। সময়মতো ধরা না পড়লে এই ক্যানসার প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
3
15
চিকিৎসকদের মতে, অন্যান্য ক্যানসারের মতোই ওরাল ক্যানসারের ক্ষেত্রেও দ্রুত রোগ নির্ণয় রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
4
15
তবে এতদিন এই রোগ নির্ণয়ের জন্য বায়োপসির মতো যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতির উপর নির্ভর করতে হতো। এবার সেই সমস্যার সমাধান নিয়ে আশার খবর দিলেন ব্রিটেন ও ভারতের একদল গবেষক।
5
15
তাঁরা এমন একটি নতুন পরীক্ষা তৈরি করেছেন, যেখানে মুখে শুধু একটি বিশেষ ব্রাশ বুলিয়েই ওরাল ক্যানসারের উপস্থিতি নির্ণয় করা সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই মিলবে পরীক্ষার ফল।
6
15
গবেষকদের তৈরি এই পরীক্ষার নাম কোয়ানটেটিভ ম্যালিগন্যান্সি ইনডেক্স ডায়াগনস্টিক সিস্টেম (Quantitative Malignancy Index Diagnostic System)
7
15
এই পদ্ধতিতে সন্দেহজনক ক্ষতস্থানে একটি ছোট ব্রাশ দিয়ে কোষ সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি মুখের সুস্থ অংশ থেকেও একটি নমুনা নেওয়া হয়।
8
15
এরপর ওই নমুনায় ওরাল ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত চারটি নির্দিষ্ট জিনের mRNA-এর কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
9
15
সাধারণত ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে মুখে দীর্ঘদিন ধরে না-সারা ঘা, ঠোঁট, মাড়ি, জিভ বা গালের ভিতরে সাদা বা লাল দাগ দেখা দিতে পারে। যদিও এই ধরনের সব ক্ষতই ক্যানসার নয়, তবুও পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।
10
15
বর্তমানে এই পরীক্ষা করতে স্ক্যালপেল দিয়ে টিস্যুর নমুনা কেটে বায়োপসি করতে হয়, যা অনেকের কাছেই ভীতিকর ও কষ্টদায়ক। অনেক ক্ষেত্রে রোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে একাধিকবার বায়োপসি করারও প্রয়োজন হয়।
11
15
নতুন গবেষণায় ৫৪৫ জন রোগীর উপর এই qMIDS পরীক্ষার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। যাঁদের মুখে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তাঁদের ব্রাশ বায়োপসি করে পরীক্ষা চালানো হয়।
12
15
এই পরীক্ষার নির্ভুলতা প্রায় ৯৫.৫ শতাংশ। ভুলভাবে ক্যানসার শনাক্ত করা (False Positive) বা ক্যানসার থাকা সত্ত্বেও ধরা না পড়ার (False Negative) হার ছিল ৫ শতাংশেরও কম।
13
15
গবেষকদের মতে, এই পরীক্ষার নির্ভুলতা প্রচলিত মাইক্রোবায়োপসির কাছাকাছি। তাই ভবিষ্যতে এটি কম ঝুঁকির রোগীদের অপ্রয়োজনীয় বায়োপসি থেকে রেহাই দিতে পারে। একই সঙ্গে যাঁদের মুখে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক ক্ষত রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণও অনেক সহজ হবে।
14
15
বিশ্বজুড়ে ১৯৯০ সালের পর থেকে ওরাল ক্যানসারের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এবং হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করা হয়।
15
15
গবেষকরা এখন এই পরীক্ষাটিকে বাণিজ্যিকভাবে চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দু'বছরের মধ্যেই এটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।