বিশ্বজুড়ে আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ুবিজ্ঞানীদের কপালে উদ্বেগের ভাঁজ। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিষুবরেখীয় প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
2
13
আবহাওয়ার পরিভাষায় এটি একটি ‘সুপার এল নিনো’-র ইঙ্গিত, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার সমস্ত পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন বিপদের সৃষ্টি করতে পারে।
3
13
‘এল নিনো’ হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের জলের উপরিভাগ অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে মহাসাগরীয় জলভাগ থেকে বিপুল পরিমাণ তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বব্যাপী বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন ও বায়ুর চাপ বদলে যায়।
4
13
সাধারণ এল নিনোর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যখন তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ৩ ডিগ্রি বা তার বেশি হয়, তখন তাকে বলা হয় ‘সুপার এল নিনো’। এর আগে ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালে এমন শক্তিশালী এল নিনো দেখা গিয়েছিল, যা মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।
5
13
মেট অফিস এবং নোয়া-র মতো আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা সংস্থাগুলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই এল নিনো বিগত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।
6
13
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবী ইতিমধ্যেই আগের চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত। তার ওপর যদি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, তবে তা বর্তমান উষ্ণায়নের ভিত্তিপ্রস্তরকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
7
13
তীব্র খরা ও দাবানল: দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ খরা ও দাবানলের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
8
13
ভারী বৃষ্টি ও বন্যা: প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় এলাকা, দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চল এবং আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বিধ্বংসী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
9
13
সামুদ্রিক ঝড়: ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় এবং ট্রপিক্যাল স্টর্মের ধরন ও তীব্রতা পরিবর্তন হতে পারে।
10
13
ভারতের আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এল নিনো সবসময়ই একটি বড় চিন্তার কারণ। ঐতিহাসিকভাবে এল নিনোর বছরগুলিতে ভারতে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়।
11
13
শক্তিশালী এল নিনো সক্রিয় থাকলে ভারতের কৃষিক্ষেত্র এবং দুই ঋতুর ফসল উৎপাদন মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। খরা পরিস্থিতি তৈরি হলে পানীয় জল সংকট, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
12
13
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, এল নিনোর সর্বোচ্চ প্রভাব সরাসরি সেই বছরেই নয়, বরং তার পরবর্তী বছরে বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি দেখা হয়।
13
13
ফলে ২০২৬ সালের শেষে যদি এই সুপার এল নিনো চরম রূপ নেয়, তবে তা বিশ্বের গড় তাপমাত্রাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।