বর্তমান অর্থবাজারে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন একটি বিশেষ সূচকের দিকে—নিফটি-গোল্ড রেশিও। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অনুপাত বা রেশিও কমে ১.৫-এ দাঁড়িয়েছে।
2
12
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন ভারতীয় ইকুইটি বা শেয়ার বাজারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত হতে পারে। ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, যখনই এই রেশিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তারপরেই শেয়ার বাজারে বড় ধরনের তেজি ভাব বা 'বুল রান' দেখা গিয়েছে।
3
12
সহজ কথায়, নিফটি ৫০ সূচক এবং সোনার মূল্যের মধ্যকার আপেক্ষিক অবস্থানই হল নিফটি-গোল্ড রেশিও। এটি আমাদের জানায় যে, সোনার তুলনায় শেয়ার বাজার কতটা সস্তা বা মহার্ঘ। যখন এই রেশিও নিচের দিকে নামে, তখন বোঝা যায় যে সোনার দামের তুলনায় শেয়ারের দাম তুলনামূলকভাবে কম। অর্থাৎ, বিনিয়োগের পরিভাষায় শেয়ার বাজার তখন 'আন্ডারভ্যালুড' বা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে নিচে অবস্থান করছে।
4
12
৩০ মার্চ ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, নিফটি এবং সোনার দামের অনুপাত ১.৫-এ নেমে আসাকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
5
12
নিফটি-গোল্ড রেশিও ১.৫-এর দিকে চলে আসা মানে আমরা এমন এক অঞ্চলে প্রবেশ করছি যেখানে সোনা অপেক্ষা ইকুইটি অনেক বেশি সস্তা। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, এই ধরনের পরিস্থিতি কোনও আতঙ্কের নয়, বরং পরবর্তী কয়েক বছরের জন্য শেয়ার বাজারের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের পূর্বাভাস দেয়।
6
12
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যখনই এই রেশিও ২.৫-এর নিচে নামে, তখনই নিফটি ৫০ সূচকে একটি স্বাস্থ্যকর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে শেয়ার এবং সোনা—উভয়ই দীর্ঘমেয়াদে প্রায় সমান্তরাল রিটার্ন দিয়েছে। যদিও সম্পদ তৈরির আলোচনায় শেয়ার বাজার বেশি গুরুত্ব পায়, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতার সময়ে সোনার 'কম্পাউন্ডিং পাওয়ার' বা চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধির ক্ষমতা কোনওভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।
7
12
বর্তমানে এই রেশিও ১.৫-এ নেমে আসা নির্দেশ করছে যে, শেয়ার বাজার সম্ভবত 'ওভারসোল্ড' জোনে রয়েছে। এর অর্থ হল, বিক্রেতাদের চাপ বা বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে শেয়ারের দাম যতটা কমার কথা ছিল, তার চেয়েও বেশি কমে গেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে।
8
12
বাজারের ভারসাম্য: এটি সোনা এবং শেয়ার—এই দুই প্রধান অ্যাসেট ক্লাসের মধ্যে ভারসাম্য বুঝতে সাহায্য করে।
9
12
ঝুঁকি: যখন শেয়ার বাজার অতিমূল্যায়িত থাকে, তখন এই রেশিও ২.৫-এর উপরে চলে যায়, যা সতর্ক হওয়ার সঙ্কেত দেয়।
10
12
ভবিষ্যৎ সঙ্কেত: বর্তমানের ১.৫ লেভেলটি নির্দেশ করছে যে সামনের দিনগুলোতে ইকুইটি মার্কেট সোনাকে ছাপিয়ে যেতে পারে।
11
12
যদিও শেয়ার বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকগুলি অর্থনৈতিক ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে, তবুও নিফটি-গোল্ড রেশিও এমন একটি সূচক যা অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা এড়িয়ে যান না।
12
12
বর্তমানের এই 'ন্যারোয়িং রেশিও' বা সঙ্কুচিত অনুপাত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারতীয় বাজারে একটি বড় ধরনের রিবাউন্ড বা ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। যারা দীর্ঘমেয়াদী সম্পদের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য সোনার পাশাপাশি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর এটি একটি কৌশলগত সময় হতে পারে।