পাকিস্তানি সাধক রিয়াজ আহমদ গওহার শাহীকে ঘিরে আবারও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি এক সর্বনাশা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তাঁর দাবি—বছর শেষ হওয়ার আগেই একটি ধ্বংসাত্মক ধূমকেতু পৃথিবীতে আঘাত হানবে এবং সেই আঘাতেই শেষ হয়ে যাবে মানবসভ্যতা ও পৃথিবীর জীবন। বহু বছর ধরে অনুসারীদের মধ্যে এই সতর্কবার্তা গোপনে ঘুরে বেড়ালেও সাম্প্রতিক সময়ে এটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে অনলাইন আলোচনায় ও সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে।
2
9
ডেইলি মেল–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গওহার শাহী বিশ্বাস করতেন এই বিপর্যয় মোটেও আকস্মিক নয়। মানবজাতি নিজের বিবেক, সহমর্মিতা ও আধ্যাত্মিক সত্য থেকে এতটাই বিচ্যুত হয়ে পড়েছে যে ঈশ্বরীয় প্রতিক্রিয়া এখন অবশ্যম্ভাবী।
3
9
তাঁর বর্ণনায়, মানুষ অহংকার, ঘৃণা, যুদ্ধ, লোভ ও হিংসায় নিমজ্জিত হয়ে নিজেদের পথ হারিয়েছে। এই কারণেই ঈশ্বর পৃথিবীর উপর এক মহাজাগতিক আঘাত পাঠাবেন—একটি ধূমকেতু, যা সবকিছু এক নিমেষে ধ্বংস করে দেবে।
4
9
২০০০ সালে প্রকাশিত তাঁর বই দ্য রিলিজিয়ন অব গড–এ তিনি লিখেছিলেন, “একটি ধূমকেতু পৃথিবীর সম্পূর্ণ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২০–২৫ বছরের মধ্যেই এটি পৃথিবীতে এসে পড়বে। সেটিই হবে এই বিশ্বের শেষ দিন।” এই সময়সীমা গণনা করলে দাঁড়ায়—ঠিক এখনই সেই ভবিষ্যদ্বাণীর সময়কাল।
5
9
মেসায়া ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনালের অনুসারীরা দাবি করেন, ধূমকেতুর আঘাতে বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় নেমে আসবে। ভূমিকম্পে মহাদেশ ফেটে যাবে, বহু শহর তীব্র ঢেউয়ে তলিয়ে যাবে, ধসে পড়বে সামগ্রিক বিশ্বব্যবস্থা। তাঁদের বিশ্বাস, শাহী হয়তো কোথাও আড়ালে আছেন, পৃথিবীর এই অধঃপতন দেখছেন এবং প্রতীক্ষা করছেন সেই “শেষ মুহূর্তের”।
6
9
তবে বাস্তব বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। নাসা সহ বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে—চলতি বছরে বা নিকট ভবিষ্যতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে এমন কোনও ধূমকেতু বা গ্রহাণু নেই। যেসব বস্তুকে আগেকার দিনে সম্ভাব্য ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছিল—যেমন অ্যাপোফিস—তাও বিস্তারিত মাপজোকের পর ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে একমাত্র উল্লেখযোগ্য আগন্তুক হল আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু 3I/ATLAS, কিন্তু সেটি পৃথিবী থেকে অত্যন্ত দূরে এবং কোনওভাবেই বিপদের কারণ নয়।
7
9
অন্যদিকে সাম্প্রতিক এক গবেষণা অবশ্য সতর্ক করেছে যে সূর্যের কাছাকাছি অঞ্চলে থাকা কিছু গ্রহাণু আমাদের দৃষ্টির বাইরে লুকিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে শুক্র গ্রহ মাঝে মাঝে এমনভাবে অবস্থান নেয় যে তার পেছনে থাকা ক্ষুদ্র বস্তুরা টেলিস্কোপে ধরা পড়ে না। তবে এই গবেষণায় কোথাও বলা হয়নি যে এমন কোনও গোপন গ্রহাণু এখনই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে।
8
9
গওহার শাহী নিজে ২০০১ সালে লন্ডন থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন এবং এরপর আর কখনও প্রকাশ্যে দেখা যাননি। কেউ বলেন তিনি মারা গেছেন, আবার তাঁর অনুসারীদের দাবি—তিনি অদৃশ্য হয়ে গেছেন কেবল মানবজাতির চূড়ান্ত পরিণতির অপেক্ষায়। তাঁদের বক্তব্য, কয়েক দশক আগে বৃহস্পতি গ্রহে যে ধূমকেতু–খণ্ডের আঘাত লেগেছিল, সেটি ছিল আসন্ন মহাবিপর্যয়ের প্রথম ইঙ্গিত।
9
9
তবে বিজ্ঞানীর ভাষায়, এসব দাবি কুসংস্কার ও গুজবের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। পৃথিবীকে ধ্বংস করার মতো কোনও ধূমকেতু বর্তমানে মহাকাশে নেই এবং মানবসভ্যতার শেষ এখনই ঘনিয়ে আসছে—এমন প্রমাণও নেই। বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে বলতে গেলে, গওহার শাহীর ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাসের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, বিজ্ঞানের নয়।