কৃত্রিম মেধার সঙ্গে এত দিন মানুষের যোগাযোগ ছিল মূলত প্রশ্ন করা আর উত্তর পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চ্যাটবটকে কিছু লিখতে বললে সে লিখে দিত, কিন্তু বাস্তবে কম্পিউটার বা মোবাইলের বোতাম টিপে কাজটা নিজে করে দেওয়ার ক্ষমতা তার ছিল না। সেই চেনা সমীকরণটাই এবার বদলে দিতে মাঠে নামল মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা মেটা।
2
9
দৈনন্দিন নানা কাজ ব্যবহারকারীর হয়ে নিজে হাতে সেরে ফেলতে তারা নিয়ে এল সম্পূর্ণ নতুন এক স্বয়ংক্রিয় এআই সহকারী—‘মিউজ’ (Muse)। মেটার বক্তব্য, এটি কেবল কথার জবাব দেওয়ার চ্যাটবট নয়, বরং আপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বুঝে চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করে যাওয়া এক নিজস্ব ডিজিটাল সঙ্গী। আপাতত আমেরিকার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য এটি চালু হয়েছে।
3
9
মেটা জানিয়েছে, সাধারণ মেসেজিং অ্যাপে যেভাবে মানুষ বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে, ঠিক সেভাবেই নতুন এই ‘মিউজ’ অ্যাপের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করে একে যেকোনও কাজের দায়িত্ব দেওয়া যাবে। এটি শুধু ক্যালেন্ডারে রিমাইন্ডার দেওয়াই নয়, নিজে থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজ করে তথ্য জোগাড় করা, ট্রাভেল টিকিট কাটা, অফিসের দীর্ঘ ইমেলের উত্তর ড্রাফট করে পাঠানো, এমনকি অনলাইন শপিং করার মতো জটিল কাজগুলো একের পর এক ধাপে নিখুঁতভাবে শেষ করতে পারে।
4
9
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, ব্যবহারকারী নির্দেশ দেওয়ার পর অ্যাপটি বন্ধ করে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও ‘মিউজ’ ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজের মতো করে কাজ চালিয়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজ শেষ হলেই কেবল ব্যবহারকারীকে বার্তা পাঠায়।
5
9
তবে এমন একটি টুল যখন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ইমেল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কিংবা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা রাখে, তখন তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ব্যবহারকারীর অজান্তে কোনও ভুল লেনদেন বা ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
6
9
এই উদ্বেগের জবাবে মেটা জানিয়েছে, নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রযুক্তিগত কাঠামোয় বড়সড় বদল আনা হয়েছে। প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য ক্লাউডে তৈরি থাকছে একটি সম্পূর্ণ আলাদা এবং সুরক্ষিত ভার্চুয়াল কম্পিউটার, যার নাম ‘মিউজ সিকিউর ভিএম’। এই সিস্টেমে একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পাহারাদার বা ‘সেন্টিনেল’ রয়েছে, যা মূল এআই মডেলটিকে ইন্টারনেটের খোলা জগৎ বা সংবেদনশীল পাসওয়ার্ড সরাসরি সুরক্ষিত রাখে।
7
9
কেনাকাটার ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেজন্য ওয়ান-টাইম ভার্চুয়াল কার্ডের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সর্বোপরি, টিকিট বুকিং বা অনলাইনে টাকা কাটানোর মতো চূড়ান্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ‘মিউজ’ নিজে থেকে কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে ব্যবহারকারীর স্পষ্ট সম্মতি বা অনুমোদন চাইবে।
8
9
আপাতত আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড এবং ওয়েবে বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ মিললেও ভারী কাজের জন্য নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম প্ল্যানের ব্যবস্থাও রাখছে মেটা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রে-ব্যান মেটা স্মার্ট গ্লাসেও এই সহকারীকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ওপেনএআই কিংবা গুগলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভিড়ে মেটার এই নতুন পদক্ষেপ মূলত কৃত্রিম মেধাকে শুধুই এক প্রশ্নের উত্তরদাতা থেকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক স্থায়ী কর্মীতে রূপ দেওয়ার লড়াই।
9
9
তথ্য সুরক্ষার অতীতের বিতর্ক কাটিয়ে সাধারণ মানুষ তাদের জীবনের চাবিকাঠি কতটা নিশ্চিন্তে এই ‘মিউজ’-এর হাতে তুলে দেয়, এখন সেটার ওপরই নির্ভর করছে মেটার এই নতুন যাত্রার ভবিষ্যৎ।