সকালের জলখাবারে অমলেট হোক কিংবা রাতের খাবারে ডিমের কারি—ডিম ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন খাবারের মেনু ভাবাই কঠিন। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি কমবেশি সব বাড়িতেই নিয়মিত কেনা হয়। কিন্তু বাজার থেকে কিনে আনা ডিমটি আদৌ টাটকা তো, নাকি ভেতরে পচে নষ্ট হয়ে গেছে? ডিমের খোসা না ফাটিয়ে বাইরে থেকে তা বোঝার কোনও উপায় থাকে না বলে অনেকেই ধন্দে পড়েন।
2
7
খারাপ বা পচা ডিম খেলে পেটের বড়সড় সংক্রমণ পর্যন্ত হতে পারে। এই সাধারণ অথচ জরুরি সমস্যার সমাধানে এবার ঘরোয়া উপায়ে ডিমের সতেজতা যাচাই করার সঠিক কৌশল ভিডিওর মাধ্যমে শেয়ার করল ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (FSSAI)।
3
7
খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের শেয়ার করা তথ্যে জানানো হয়েছে, ডিম ভালো না খারাপ, তা জানার জন্য কোনও জটিল পদ্ধতির প্রয়োজন নেই; কেবল এক বাটি বা এক গ্লাস পরিষ্কার জলই যথেষ্ট। এই জনপ্রিয় পদ্ধতিটি পরিচিত ‘ফ্লোট টেস্ট’ (Float Test) নামে। প্রথমে একটি কাচের পাত্র বা বাটিতে সাধারণ জল নিতে হবে। এরপর পরীক্ষা করার জন্য রাখা কাঁচা ডিমটিকে আলতো করে সেই জলে ছেড়ে দিতে হবে।
4
7
ডিমটি জলে দেওয়ার পরই তার আচরণ লক্ষ্য করতে হবে। যদি দেখা যায় ডিমটি সোজা বাটির একদম তলায় চলে গিয়ে আড়াআড়ি বা সমতলভাবে শুয়ে পড়ছে, তবে বুঝতে হবে ডিমটি একেবারে টাটকা ও স্বাস্থ্যকর। আবার ডিমটি যদি তলার দিকেই থাকে কিন্তু কিছুটা ওপরের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকে, তবে সেটি খুব টাটকা না হলেও রান্নার উপযোগী।
5
7
তবে সতর্ক হতে হবে তখনই, যখন ডিমটি জলের ওপর ভেসে উঠবে। ডিম যদি জলের গভীরে না গিয়ে বাটির উপরিভাগে ভাসতে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে ধরে নিতে হবে যে সেটি নষ্ট বা বাসি হয়ে গেছে। খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট পরামর্শ, এমন ডিম কখনোই খাওয়া উচিত নয় এবং সঙ্গে সঙ্গে তা ফেলে দেওয়া ভালো।
6
7
কিন্তু এমনটা কেন ঘটে? এর পেছনে রয়েছে একটি সহজ বৈজ্ঞানিক কারণ। ডিমের খোসায় হাজার হাজার অতি ক্ষুদ্র রন্ধ্র বা ছিদ্র থাকে। ডিম যত পুরোনো হতে থাকে, তার ভেতরের জলীয় অংশ বা আর্দ্রতা এই ছিদ্র দিয়ে বাষ্পীভূত হয়ে ধীরে ধীরে বাইরে বেরিয়ে যায়। সেই খালি জায়গায় জায়গা করে নেয় বাতাস, যার ফলে ডিমের ভেতরের ‘এয়ার পকেট’ বা বায়ুথলি ক্রমশ বড় হতে থাকে।
7
7
ভেতরের বাতাস বাড়ার কারণেই ডিমটি হালকা হয়ে যায় এবং নষ্ট ডিম জলের উপরিভাগে ভেসে ওঠে। অন্যদিকে টাটকা ডিমের ক্ষেত্রে ভেতরের আর্দ্রতা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং কোনও বাতাস ঢোকে না, তাই ওজনে ভারী হওয়ায় তা জলের গভীরে ডুবে থাকে। বাজার থেকে ডিম কিনে এনে রান্নার আগে এই ছোট অথচ কার্যকরী পরীক্ষাটি করে নিলে পেটের সমস্যা এড়ানো যেমন সম্ভব, তেমনই পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষাও নিশ্চিত করা যায়।