ডিজিটাল লেনদেনের যুগে ইউপিআই এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাজার করা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ বিল, দোকানের পেমেন্ট কিংবা কর্মীদের বেতন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইউপিআই-এর ব্যবহার বেড়েছে।
2
13
ফলে কোনও কারণে ইউপিআই-র সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সমস্যা তৈরি হলে কার্যত বিপাকে পড়তে হয় গ্রাহককে। এরই মধ্যে ইউপিআই-তে অচেনা উৎস থেকে টাকা আসার পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
3
13
সম্প্রতি কেরলের বাসিন্দা ফুতুমবাকা সুমা সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এমনই অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি, গত ৪ এবং ৩১ আগস্ট অচেনা ইউপিআই থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে দু’বার টাকা জমা পড়ে।
4
13
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত দেননি। পরে ওই টাকার প্রেরক হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
5
13
সুমার বক্তব্য, প্রতারণার কোনও চক্রের অংশ হতে না চেয়ে তিনি প্রেরককে নিজের ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পাশাপাশি সঠিক প্রক্রিয়ায় টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
6
13
কিন্তু এর পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাঁর অভিযোগ, ব্যাঙ্ক প্রথমে ওই নির্দিষ্ট টাকার উপর ব্লক বসায় এবং পরে তাঁর পুরো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই ফ্রিজ করে দেয়।
7
13
কেরল পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে করা ওই পোস্টে সুমা প্রশ্ন তোলেন, পুরো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলে তিনি কীভাবে দৈনন্দিন খরচ চালাবেন? কর্মীদের বেতন দেবেন কীভাবে?
8
13
তাঁর দাবি, কেরল হাই কোর্টের একটি রায়ে বলা হয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট লেনদেন নিয়ে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত অর্থের উপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত, পুরো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা নয়।
9
13
ইউপিআই বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। বিশেষ করে সাইবার প্রতারণার ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে কোনও নির্দিষ্ট অর্থের উপর ‘হোল্ড’ বা ডেবিট ফ্রিজ করা হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হল বিতর্কিত অর্থ যাতে অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া বা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া না যায়।
10
13
তবে কোনও নির্দিষ্ট টাকার লেনদেন নিয়ে আপত্তি থাকলে পুরো অ্যাকাউন্টের সমস্ত অর্থ ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে আদালতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে বিতর্কিত অর্থের পরিমাণের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে।
11
13
তাই আপনার অ্যাকাউন্টে অচেনা উৎস থেকে টাকা এলে নিজের মত করে তা ফেরত না দিয়ে প্রথমে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজন হলে সাইবার ক্রাইম কর্তৃপক্ষকে জানানোই নিরাপদ।
12
13
একইসঙ্গে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হলে ব্যাঙ্কের কাছ থেকে লিখিতভাবে কারণ জানতে চাইতে পারেন। অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা, নোডাল অফিসার এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সাইবার সেল বা পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
13
13
অচেনা ইউপিআই পেমেন্ট মানেই টাকা ফেরত দেওয়ার আগে সতর্কতা জরুরি। কারণ ভুলভাবে টাকা ফেরত দিতে গিয়ে নিজেই কোনও প্রতারণা চক্রের অংশ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।