দেশের অন্যতম শীর্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (পিএনবি) ভল্টে জাল নোটের পাহাড়। এত দিন ধরে ব্যাঙ্কের নাকের ডগায় কী ভাবে এই কারবার চলছিল, তা নিয়ে তাজ্জব কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরাও।
2
8
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের সোফিয়া মার্কেট শাখায়। সেখানকার কারেন্সি চেস্ট বা নোট জমা রাখার ঘরে অডিট চলাকালীন পাওয়া গেল প্রায় ৭ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার ভুয়ো নোট! জালিয়াতির অভিযোগে ইতিমধ্যে তিন সিনিয়র আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়ের হয়েছে মামলাও।
3
8
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। বিশাল কুমার নামে ব্যাঙ্কের এক কর্মীকে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকার নোট গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়ম মেনে তার মধ্যে রাখা ছিল কিছু পুরনো ও ছেঁড়া নোটও। গত ৫ আগস্ট এই টাকার একটি বড় অংশ পাঠানো হয় জয়পুরের একটি ভল্টে।
4
8
সেখানে টাকা গোনার সময় দেখা যায়, হিসেবের তুলনায় ৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা কম রয়েছে! তাতেই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। পিএনবি-র মিরাট জোনাল হেড অজয় কুমার তিবরেওয়াল বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চিফ ম্যানেজার অরুণ কুমার চৌবেকে সাহারানপুরে পাঠান। ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করতেই আসল কাণ্ডটি সামনে আসে। দেখা যায়, কর্মচারী বিশাল বান্ডিল থেকে একটা অংশ সরিয়ে নিচ্ছেন।
5
8
এর পর ৯ আগস্ট শুরু হয় ব্যাঙ্কের সাহারানপুর শাখার ভল্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট। আর তাতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। দেখা যায়, সিন্দুকে ভরাট করা রয়েছে মোট ৭ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার জাল নোট!
6
8
পিএনবি-র বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজার নিশা সিং জানান, অডিট দল দেখে তাজ্জব হয়ে যান। জাল নোটের বান্ডিল এমন ভাবে সাজানো হয়েছিল, যার একেবারে উপরে এবং নীচে ছিল আসল নোট, আর মাঝখানে সব নকল!
7
8
ঘটনার জল গড়িয়েছে অনেক দূরে। এই বিষয়ে ব্যাঙ্কের সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার কানসে, কারেন্সি চেস্ট ম্যানেজার সুশীল কুমার এবং অমিত কুমার- এই তিন উচ্চপদস্থ কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। পুলিশ ও ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ভিত্তিতে এই তিন জনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
8
8
যেহেতু বিভিন্ন শাখা থেকে এসে টাকা এই কারেন্সি চেস্টে জমা হয়, তাই অডিটের কাজ এখনও জারি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরও ভুয়ো নোট উদ্ধার হতে পারে। পুরো জালিয়াতির জাল কতটা গভীরে ছড়ানো, তা খতিয়ে দেখতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ একযোগে তদন্ত চালাচ্ছে।