এক বাঙালি যাত্রীর চিঠিই বদলে দিয়েছিল ভারতীয় রেলের পরিকাঠামো! জানেন কার জন্য ট্রেনে বাথরুমের ব্যবস্থা করা হয়?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ : ৪০
শেয়ার করুন
1
7
১৮৫৩ সালে প্রথমবার ভারতের মাটিতে গড়িয়েছিল ট্রেনের চাকা। কিন্তু সেই সময় তো বটেই, তারপর প্রায় অর্ধশতাব্দী কেটে গেলেও ভারতীয় রেলওয়ের কোনও ট্রেনে ছিল না বাথরুমের ব্যবস্থা। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর কোনও প্যাসেঞ্জার ট্রেনে টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু কার জন্য? কীভাবে? ছবি- সংগৃহীত
2
7
১৯০৯ সালের ২ জুলাই এক বাঙালি যাত্রী, অখিল চন্দ্র সেনের একটি চিঠি ভারতীয় রেলের পরিকাঠামোকে আমূল বদলে দিয়েছিল। তিনি পশ্চিমবঙ্গের সাহেবগঞ্জের ডিভিশনাল রেলওয়ে অফিসে এই চিঠি দিয়েছিলেন। তাঁর করা এই ব্যক্তিগত অভিযোগ রীতিমত রেভলিউশন ঘটিয়ে ফেলেছিল ট্রেনের পরিকাঠামোয়। ছবি- সংগৃহীত
3
7
১৯৫৩ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত যাত্রীদের ট্রেনে যেতে যেতে যদি বাথরুম যাওয়ার হতো তাহলে তাঁদের পরবর্তী স্টেশনে নেমে সেখানে বাথরুম থাকলে ব্যবহার করতে হতো, নইলে আশেপাশের মাঠেঘাটে যেতে হতো। স্বাভাবিক ভাবেই এই করতে গিয়ে অনেকেই ট্রেন মিস করতেন! ছবি- সংগৃহীত
4
7
ঠিক তেমন ভাবেই একবার এই অখিল চন্দ্র সেন ট্রেনে করে যাওয়ার সময় বাথরুম করতে আহমেদপুর স্টেশনে নামেন। এরপর তিনি কাজ মিটিয়ে এসে দেখেন ট্রেন তাঁকে ফেলে রেখেই চলে গিয়েছে। ছবি- সংগৃহীত
5
7
এই গোটা ঘটনাটা একটি চিঠিতে লিখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। অখিল চন্দ্র সেন জানান ট্রেনের হুইসেল শুনে তিনি এক হাতে লোটা অর্থাৎ জলের ঘট, অন্য হাতে ধুতির কোঁচা ধরে দৌড়াচ্ছিলেন ট্রেন ধরবে বলে। কিন্তু পারেন তো না-ই, উল্টে হুমড়ি খেয়ে সবার সামনে পড়ে যান। অপত্তিকর অবস্থায় পড়েন। ছবি- সংগৃহীত
6
7
তাঁর সেই চিঠি পাওয়ার পর ট্রেনে বাথরুমের গুরুত্ব বোঝেন রেলওয়ের কর্তারা। তখন ৫০ মাইলের বেশি দূর যে ট্রেন যায় তাতে সমস্ত ট্রেনের লোয়ার ক্লাসেও বাথরুমের ব্যবস্থা করা হয়। আর এই ঘটনাই আমূল বদলে দেয় ভারতীয় রেলওয়ের পরিকাঠামোকে।ছবি- সংগৃহীত
7
7
এখন যে কোনও দূরপাল্লার ট্রেনে বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে। তবে তার ইতিহাস কতজনই বা আর জানেন! নিউ দিল্লির জাতীয় রেল মিউজিয়ামে এখনও রাখা আছে অখিল চন্দ্র সেনের এই ঐতিহাসিক চিঠি।ছবি- সংগৃহীত