মধ্য এশিয়াতে চলা অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও দেশের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। শনিবারও গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেও সাধারণ মানুষের রান্নার খরচ আপাতত বাড়ছে না।
2
8
তবে অন্যদিকে, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আবারও বেড়েছে, যা হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং পরিষেবা এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েল সংঘাতের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে ওঠানামা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশীয় বাজারেও।
3
8
সংশোধিত দামের তালিকা অনুযায়ী, দিল্লিতে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম রয়েছে ৯১৩ টাকা, যেখানে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,০৭৮.৫০ টাকা যা আগের তুলনায় ১৯৪ টাকা বেশি। কলকাতায় গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম ৯৩৯ টাকা থাকলেও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ২,২০৮.৫০ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ ২২০ বৃদ্ধি পেয়েছে।
4
8
মুম্বইয়ে গৃহস্থালির সিলিন্ডার ৯১২.৫০ টাকাতেই স্থির রয়েছে, কিন্তু বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২,০৩১ টাকা হয়েছে। চেন্নাইয়ে গৃহস্থালির সিলিন্ডার ৯২৮.৫০ টাকা হলেও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২,২৪৬.৫০ টাকা হয়েছে।
চণ্ডীগড়ে গৃহস্থালির এলপিজি ৯২২.৫০ টাকা এবং বাণিজ্যিক ২,০৯৯.৫০ টাকা। হায়দরাবাদে গৃহস্থালির দাম ৯৬৫ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ২,৩২০.৫০ টাকা। জয়পুরে ৯১৬.৫০ টাকা ও ২,১০৬ টাকা, লখনউতে ৯৫০.৫০ টাকা ও ২,২০১ টাকা এবং পাটনায় সর্বোচ্চ ১,০০২.৫০ টাকা ও ২,৩৫৩.৫০ টাকা রয়েছে।
7
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরাসরি এলপিজি দামে প্রভাব ফেলছে। যদিও সরকার গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে, বাণিজ্যিক খাতে এই চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
8
8
এর ফলে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা খরচ সামাল দিতে খাবারের দাম বাড়ানোর কথাও ভাবতে পারেন, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে। তাই সামনের দিনগুলোতে এলপিজি দামের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর।