আজকাল ওয়েবডেস্ক: শরীরে ভর করেছে আত্মীয়ের ভূত। সেই ভূত তাড়াতেই তরুণীর উপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠল প্রেমিক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। তান্ত্রিক ডেকে তরুণীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্যাতনের অভিযোগ। এমনকী জোর করে মদ্যপান ও ধূমপানের অভিযোগ উঠেছে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের কোত্তায়াম জেলায়। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, শরীরে ভূত ভর করেছে, এই দাবিতে এক তরুণীর উপর নির্মমভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে এক তান্ত্রিকের বিরুদ্ধে। তরুণীকে জোর করে মদ্যপান ও ধূমপান করানোর অভিযোগও রয়েছে। 

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তরুণীর প্রেমিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। গত সপ্তাহে তাঁর বাড়িতেই এক তান্ত্রিককে ডেকে আনেন তরুণীর প্রেমিক। তাঁদের ধারণা ছিল, তরুণীর শরীরে ভূতে ভর করেছে। সেই ভূত তাড়াতেই কালাজাদু শুরু হয়। নির্মমভাবে তরুণীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। ক্রমেই তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। এরপরই তাঁর বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

পুলিশ জানিয়েছে, ৫৪ বছরের তান্ত্রিক শিবদাস, তরুণীর প্রেমিক ২৬ বছরের অখিল দাস, এবং অখিলের বাবাকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ জানিয়েছে, অখিলের মা তান্ত্রিককে বাড়িতে ডেকে আনেন। এরপর কালাজাদুর প্রস্তুতি নেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, তরুণীর কোনও এক আত্মীয় ভূত হয়ে তাঁর শরীরে ভর করেছে। 

সেদিন সকাল ১১টায় কালাজাদু শুরু হয়েছিল। রাত পর্যন্ত তরুণীকে কালাজাদুর নামে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এরপর অচৈতন্য হয়ে তরুণী লুটিয়ে পড়েন। তরুণীকে পুলিশকে এও জানিয়েছেন, কালাজাদু করার সময় তাঁকে জোর করে মদ্যপান করানো হয়। পাশাপাশি বিড়িও খেতে জোরাজুরি করা হয়। ঘরে ছড়িয়ে থাকা ছাই খেতে জোর করে তাঁকে। তাঁর গায়ে পোড়া দাগ রয়েছে। এই ঘটনায় আরেক অভিযুক্ত , অখিলের মা বর্তমানে পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। 

প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাসেই কালাজাদুর সন্দেহে আরও এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। গ্রামের মধ্যে বসে নিশ্চুপে দিনরাত তুকতাক। কালাজাদুর জেরে একের পর এক বাসিন্দাদের চরম পরিণতি! কেউ বা হারিয়েছেন প্রাণ। এবার তুকতাক করার অভিযোগে যুবকের উপর চরম প্রতিশোধ নিলেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের মধ্যে যুবককে নৃশংসভাবে খুন করলেন তাঁরা। ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা গ্রামে ও জেলায়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার গজপতি জেলায়। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, ৩৫ বছর বয়সি এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। তুকতাক করার অভিযোগে আরও চরম শাস্তি দিয়েছে তাঁকে। যুবককে খুনের পর তাঁর যৌনাঙ্গ কেটে বাদ দিয়ে দেয় তারা। 

পুলিশ জানিয়েছে, গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে গজপতি জেলার মোহনা থানার অন্তর্গত মালাসাদর গ্রামে। তুকতাক করার অভিযোগে ওই যুবককে কয়েকজন গ্রামবাসী ব্যাপক মারধর করেন। পিটিয়ে খুন করা হয়েছে যুবককে। এরপর তাঁর যৌনাঙ্গ কেটে বাদ দিয়ে দেন। মৃতদেহটি রাতেই হরভঙ্গি ড্যামে ফেলে দেন অভিযুক্তরা। 

রবিবার সকালে সেই ড্যাম থেকেই যুবকের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জি উদয়গিরির সাব ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার সুরেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের পর ওই গ্রামের ১৪ জন বাসিন্দাকে পুলিশ আটক করেছে। সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেন যুবককে পিটিয়ে খুন করা হল তার তদন্ত শুরু হয়েছে। 

পুলিশকে কয়েকজন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জানিয়েছেন, ওই যুবক গ্রামের মধ্যে নিশ্চুপে তুকতাক করতেন। অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে কালাজাদু করার অভিযোগ তুলেছেন। এর জেরেই বহু গ্রামবাসীর চরম পরিণতিও হচ্ছে। ঘটনার একদিন আগেই গ্রামের এক যুবতী হঠাৎ মারা যান। গ্রামবাসীদের সন্দেহ, ওই যুবক কালাজাদুর জেরেই যুবতীর মৃত্যু হয়েছে। 

গ্রামবাসীদের যে ক্ষোভ বাড়ছে, তা টের পেয়েছিলেন ওই যুবক। তাঁর উপর যে হামলা হতে পারে, তাও সন্দেহ করেছিলেন। এই ভয়েই গঞ্জম জেলায় শ্বশুরবাড়িতে পরিবারকে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন যুবক। সেখানে পৌঁছে শ্যালিকাকে অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর পোষ্য, গবাদিপশুর যত্ন নিতে। 

গত শনিবার ওই গ্রামেই পৌঁছন গোপাল নামের যুবক। বাড়িতে গিয়ে গবাদিপশু ফিরিয়ে নিতে গিয়েছিলেন। তখনই তাঁর উপরে হামলা চালান ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা। তাঁকে অপহরণ করে নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। খুনের পর তাঁর যৌনাঙ্গ কেটে, মৃতদেহ ড্যামে ভাসিয়ে দেন।