মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানে হামলা এবং তেহরানের পাল্টা জবাব মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা—সরবরাহ রুট বা উৎপাদন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই লাফিয়ে বাড়তে পারে।
2
7
ইরান এখনও বিশ্বের শীর্ষ ১০ তেল উৎপাদনকারী দেশের একটি। ১৯৭৪ সালে তারা দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত—তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পর তৃতীয় স্থানে ছিল। বর্তমানে ইরানের উৎপাদন প্রায় ৩১ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন।
3
7
মজুদের দিক থেকেও ইরান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম, যা তাকে জ্বালানির রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। নিষেধাজ্ঞার কারণে রপ্তানি সীমিত হলেও প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল তেল বিদেশে যায়, যার ৮০ শতাংশের বেশি চীনে।
4
7
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল গিয়েছে—যা বিশ্বে মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ। মাত্র ৫০ কিলোমিটার প্রস্থ ও তুলনামূলক অগভীর হওয়ায় এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
5
7
অতীতে ইরান সংকটকালে এখানে নৌ-চলাচলে বাধা দিয়েছে। পুরোপুরি অবরোধ না হলেও ট্যাঙ্কারের বীমা খরচ বাড়া, জাহাজ চলাচল ধীর হওয়া এবং বাজারে আতঙ্ক—সব মিলিয়ে দামে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হতে পারে।
6
7
ইরানে তেল উত্তোলন ব্যয় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০ ডলার, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর সমপর্যায়ের কম খরচ। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় উৎপাদন খরচ ৪০–৬০ ডলার। ফলে দাম ১০০ ডলার ছাড়ালেও ইরান কম রপ্তানিতেও বেশি আয় করতে পারে।
7
7
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি কাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা বাজারকে আরও চাপে রেখেছে। জেপি মর্গানের হিসেব বলছে, বিশ্বের বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ সীমিত; বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে দাম সহজেই ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। এটি হবে বড় ধাক্কা। এরফলে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে, মুদ্রা দুর্বল হবে, মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে।