ভারতে বিমা সম্পর্কে সচেতনতা আগের তুলনায় বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তব সুরক্ষার প্রশ্নে অধিকাংশ ভারতীয় এখনও মারাত্মকভাবে চিন্তায়। বিভিন্ন বিমা সংস্থার সমর্থিত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দেশের বড় অংশের পলিসিধারীর জীবন বিমার কভারেজ তাদের বার্ষিক আয়ের পাঁচ গুণেরও কম। অথচ অধিকাংশ আর্থিক পরিকল্পনাবিদ অন্তত ১০ থেকে ১৫ গুণ বার্ষিক আয়ের সমপরিমাণ জীবন বিমা রাখার পরামর্শ দেন।
2
11
এর অন্যতম প্রধান কারণ হল বিমা ও বিনিয়োগের মধ্যে বিভ্রান্তি। বহু মানুষ এখনও জীবন বিমাকে সঞ্চয় বা বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে দেখেন।
3
11
ফলে তারা টার্ম ইন্স্যুরেন্সের মতো কভারেজ, কম প্রিমিয়ামের পণ্য না নিয়ে ইউলিপের মতো কম কভারেজের পলিসি বেছে নেন। এতে প্রিমিয়াম বেশি হলেও প্রকৃত ঝুঁকি সুরক্ষা থেকে যায়।
4
11
আরেকটি বড় কারণ হল আয়ের সঠিক মূল্যায়নের অভাব। অনেকেই বর্তমান আয় ধরেই বিমা করেন, ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বা ঋণের দায় বিবেচনায় নেন না। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কভারেজ বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হয়ে যায়।
5
11
মানসিক বাধাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের মৃত্যুর কথা ভাবতে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বোধ করেন।
6
11
এর ফলে “যতটুকু হলেই চলবে” মনোভাব তৈরি হয়। অনেকেই মনে করেন, সামান্য বিমা থাকাই যথেষ্ট, যদিও বাস্তবে তা পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।
7
11
এছাড়া আর্থিক পরিকল্পনার অভাবও বড় সমস্যা। ভারতের বড় অংশের মানুষ এখনও পেশাদার ফিনান্সিয়াল প্ল্যানারের সাহায্য নেন না।
8
11
বিমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক সময় আত্মীয়, বন্ধু বা এজেন্টের পরামর্শে হয়, যেখানে প্রয়োজন বিশ্লেষণের বদলে পণ্য বিক্রিই মুখ্য থাকে। ফলে সেখানে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
9
11
কর সাশ্রয়কেও অনেকেই বিমার প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে দেখেন। ধারা ৮০সি-র ছাড় পেতে গিয়ে মানুষ কম কভারেজের পলিসি নেন, অথচ প্রকৃত ঝুঁকি কভারেজের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়।
10
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে ভয়াবহ ঝুঁকি। উপার্জনকারী সদস্যের অকাল মৃত্যু হলে পরিবারের জীবনযাত্রা, ঋণ পরিশোধ, সন্তানের শিক্ষা—সবকিছুই অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। তাই সময়মতো নিজের বিমা কভারেজ পর্যালোচনা করা, আয় ও দায় অনুযায়ী তা বাড়ানো এবং বিনিয়োগ ও বিমাকে আলাদা করে দেখা অত্যন্ত জরুরি।
11
11
বিমা কেনা নয়, পর্যাপ্ত বিমা নেওয়াই প্রকৃত আর্থিক সুরক্ষার চাবিকাঠি—এই বাস্তবতা এখনও অধিকাংশ ভারতীয়র কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি।