বাজেট ২০২৬-কে ঘিরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা খাতে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ সুদ, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং চাহিদার অনিশ্চয়তার মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে ছোট ব্যবসাগুলি প্রবল চাপের মুখে রয়েছে।
2
10
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন বাজেটে সরকার কিছু লক্ষ্যভিত্তিক স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
3
10
সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা কর কাঠামো নিয়ে। বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আশা করছেন, অনুমানভিত্তিক কর ব্যবস্থার সীমা বাড়ানো হতে পারে, যাতে কম টার্নওভারের ব্যবসাগুলি জটিল হিসাবরক্ষণ ও অডিটের ঝামেলা থেকে মুক্তি পায়। পাশাপাশি করের হার কিছুটা কমানো বা অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার দাবিও দীর্ঘদিনের।
4
10
ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বাজেট থেকে বড় ঘোষণা আসতে পারে। বর্তমানে সরকারি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম থাকলেও বাস্তবে অনেক ছোট উদ্যোক্তা সহজে ঋণ পান না।
5
10
বাজেট ২০২৬-এমএসএমই ঋণ গ্যারান্টি স্কিমের আওতা বাড়ানো, সুদের ভর্তুকি বা দ্রুত ঋণ অনুমোদনের জন্য ডিজিটাল প্রক্রিয়া আরও সরল করার প্রস্তাব আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
6
10
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নগদ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো। বড় সংস্থা ও সরকারি দপ্তরের কাছ থেকে পাওনা আদায়ে দেরি হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বাজেটে পেমেন্ট ডিলে সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম কার্যকর করা এবং সময়মতো বিল পরিশোধে উৎসাহ দেওয়ার কথা ঘোষণা হতে পারে।
7
10
ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বাড়তি সহায়তার সম্ভাবনা রয়েছে। ই-ইনভয়েসিং, জিএসটি ফাইলিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় মানিয়ে নিতে অনেক ছোট ব্যবসার খরচ বাড়ছে। বাজেটে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি আপগ্রেডেশন এবং সফটওয়্যার ভর্তুকির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা বড় স্বস্তি দেবে।
8
10
রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিও বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। বিশ্বে মন্দার প্রভাব সামলাতে রপ্তানি, সহজ কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং লজিস্টিক খরচ কমানোর ঘোষণা এলে ছোট রপ্তানিকারকরা উপকৃত হবেন।
9
10
সব মিলিয়ে বাজেট ২০২৬ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য কতটা সহায়ক হবে, তা নির্ভর করবে ঘোষণাগুলি কতটা বাস্তবমুখী ও কার্যকর হয় তার ওপর।
10
10
তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই খাতকে স্বস্তি দেওয়া সরকারের জন্য শুধু প্রয়োজনই নয়, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক বৃদ্ধির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।