এই ম্যাচকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসছে ১৯৮২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতি। সেবার মঞ্চ ছিল ইডেন গার্ডেন্সে। তখন ইডেন শুধু ক্রিকেটের দুর্গ ছিল না, ফুটবলেরও অন্যতম বড় কেন্দ্র ছিল। প্রথম নেহরু কাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের সামনে দাঁড়িয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল উরুগুয়ে।
2
11
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জেতা এবং ১৯৫০ সালে মারাকানায় ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে ইতিহাস তৈরি করা সেই উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল ভারত। ভারতীয় দলের কোচ ছিলেন কিংবদন্তি পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে উরুগুয়ের দলে ছিলেন রদোলফো রদ্রিগেস, নেস্তর মন্তেলোঙ্গো, হোসে লুইস রুসো, হুয়ান ফেরারি, ওয়াশিংটন গঞ্জালেস, হোর্হে বারিওস, নেলসন আগ্রেস্তা, এনজো ফ্রান্সিসকোলি, আমরো নাদাল, হোর্হে দা সিলভা এবং ভেনানসিও রামোসের মতো ফুটবলাররা।
5
11
শুরুতেই ধাক্কা ভারতকে। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই গোল করে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন হর্হে দ্য সিলভা। ২৩ মিনিটে ফের গোল করেন তিনিই। মুহূর্তের মধ্যে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে ভারত। তবে ম্যাচ সেখানেই শেষ হয়ে যায়নি।
গোলের সঙ্গে সঙ্গেই যেন গর্জে উঠেছিল ইডেনের গ্যালারি। দীর্ঘ নীরবতার পর কলকাতা আবার ফিরে পেয়েছিল তার স্বর। সেই ম্যাচে মানস ভট্টাচার্যের গোলটি শুধু একটি গোল ছিল না। শক্তিশালী উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিল সেটি।
8
11
১৯৮২-র নেহরু কাপে মানসের দাপট। আশির দশকের ভারতীয় ফুটবলে মানস ভট্টাচার্য ছিলেন অন্যতম দ্রুতগতির ফুটবলার। ডান প্রান্ত দিয়ে তাঁর দৌড় ছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় সমস্যা।
9
11
১৯৮২ সালের নেহরু কাপে আরও দু’বার গোল করেছিলেন মানস। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ২-২ ড্র ম্যাচে গোল করার পর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে এবং যুগোস্লাভিয়ার বিরুদ্ধেও জালে বল পাঠান তিনি।টুর্নামেন্টে ভারত পাঁচ ম্যাচে মোট ছ’টি গোল করেছিল। তার মধ্যে তিনটিই এসেছিল মানসের পা থেকে।
10
11
সেই সময় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলগুলির বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে এমন পারফরম্যান্স আজও বিশেষভাবে স্মরণীয়।
11
11
১৯৮২ সালে মানস ভট্টাচার্য যে গল্পের একটি অধ্যায় লিখেছিলেন, ৬ অক্টোবর ২০২৬-এ সেই একই শহরে নতুন প্রজন্মের ভারতীয় ফুটবলাররা নামবেন নতুন ইতিহাস লেখার লক্ষ্য নিয়ে।