১৯৭০ সালের ১১ নভেম্বর। ভারত মহাসাগরে আছড়ে পড়েছিল সুপার সাইক্লোন ‘ভোলা’। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগে। সে বছর এটি ভারতের মহাসাগরের ষষ্ঠ ও সবচেয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়। এর দাপট ছাড়িয়ে গিয়েছিল ১৯৭৬ সালের তাংশাং ভূমিকম্প বা ২০০৪ সালের সুনামিকেও।
2
9
৮ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেওয়া এই ঝড় শক্তি বাড়িয়ে ১১ নভেম্বর বিকেলে উপকূল ছোঁয়। সেই সময় এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। ঝড়ের তীব্রতায় চট্টগ্রামের আবহাওয়া অফিসের অ্যানিমোমিটার উড়ে যাওয়ায় সঠিক গতি মাপা না গেলেও, এর সর্বোচ্চ গতিবেগ উঠেছিল ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
3
9
ভোলার তাণ্ডবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং দ্বীপগুলোয় ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস দেখা যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচু ভূমি প্লাবিত হয়ে প্রাণ হারান প্রায় ৫ লাখ মানুষ।
4
9
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাজুমুদ্দিন উপজেলা। সেখানকার ১ লাখ ৬৭ হাজার বাসিন্দার প্রায় ৪৫ শতাংশই মারা যান। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ১৫ ফুটের ঢেউ আছড়ে পড়ে এবং জলের নিচে তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দর। ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ।
5
9
তৎকালীন ৮৭ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৮৫ শতাংশ বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়। মারা যায় ২ লাখ ৮০ হাজার গবাদিপশু। বেঁচে থাকা ৭৫ শতাংশ মানুষকে মাসের পর মাস কাটাতে হয় ত্রাণের ওপর ভরসা করে।
6
9
পাকিস্তান রেডিওর বুলেটিনে জানানো হয়েছিল, চট্টগ্রামের কাছের ১৩টি দ্বীপের একজন মানুষও বেঁচে নেই। সে সময় পূর্ব পাকিস্তানে ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকার ত্রাণ কার্যক্রমে চরম গড়িমসি ও উদাসীনতা দেখায়।
7
9
ফলে খাবার ও জলের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মারা যান বহু মানুষ। সরকারের এই নির্মম আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনে বিশাল জয় পায় আওয়ামী লীগ। পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম রাজনৈতিক অনুঘটক হয়ে ওঠে।
8
9
১৯৯১ সালেও ২৬০ কিলোমিটার বেগে ‘বিওবি-০১’ নামে আরেকটি সুপার সাইক্লোন ওই অঞ্চলে আছড়ে পড়ে। সরকারের আগাম পদক্ষেপে প্রাণহানি ১ লাখ ৪০ হাজারে নামলেও, ১ কোটি মানুষ সর্বস্ব হারান।
9
9
সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিচারে ‘ভোলা’ আজও পৃথিবীর ইতিহাসে এক নম্বর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।