আবারও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নতুন নিম্নচাপ। ইতিমধ্যেই শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে সেটি।
2
13
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যেই এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর ২ নভেম্বর পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
3
13
ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মুরাসু’ । এই নামটি দিয়েছে ভারত। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ ঢাক।
4
13
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এটি বর্তমানে চেন্নাই থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং মছলিপত্তনম থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে।
5
13
আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
6
13
সেই সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
7
13
এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী তিন দিন অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা এবং রায়ালসীমায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। রবিবার কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপটলা, প্রকাশম, মার্কাপুরম এবং নেল্লোর জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
8
13
সোমবার এলুরু, পশ্চিম গোদাবরী, এনটিআর, কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপটলা, পাল্নাডু, প্রকাশম, মার্কাপুরম, নেল্লোর এবং তিরুপতি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
9
13
মঙ্গলবার বিশাখাপত্তনম, অনকাপল্লি, বিজয়নগরম, কুর্নুল, নন্দিয়াল, কাদাপা, অনমাইয়া, নেল্লোর, চিত্তুর এবং তিরুপতি জেলার বিভিন্ন অংশে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
10
13
পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
11
13
বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র উত্তাল থেকে অতি উত্তাল হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
12
13
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়েছিল। প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উপড়ে পড়ে গাছ এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ পরিষেবা।
13
13
মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু পশ্চিম গোদাবরী জেলার ক্ষতিগ্রস্ত নারসাপুরম ও মোগালথুর এলাকা পরিদর্শন করেন। এখনও চলছে ক্ষয়ক্ষতি সামলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোর কাজ। তার মধ্যেই নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে অন্ধ্রপ্রদেশে।